Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

আইএমএফের ঋণ পাওয়ার পর জ্বালানির দাম বাড়ালো শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং ব্যয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা রোববার জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। রাষ্ট্রীয়...
Homeকাজাখস্তানে পারমাণবিক স্থাপনা বানাচ্ছে রাশিয়া, ব্যয় ১৬ বিলিয়ন ডলার

কাজাখস্তানে পারমাণবিক স্থাপনা বানাচ্ছে রাশিয়া, ব্যয় ১৬ বিলিয়ন ডলার

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত দেশ কাজাখস্তানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া। এই চুক্তির আওতায় কাজাখস্তানে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যয়ের একটি বড় অংশ রপ্তানি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কাজাখস্তান সফরে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে জনসমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আলকান গ্রামকে প্রকল্পের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়নের জন্য রুশ রপ্তানি ঋণ প্রদানের বিষয়েও দুই দেশ একটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, রাশিয়া কেবল কাজাখস্তানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে না বরং দেশটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শিল্প গড়ে তুলছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, আমরা শুধু ঋণের অর্থ ব্যবহার করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করছি না। আমরা একটি শিল্প খাত গড়ে তুলছি। আমরা বিশেষজ্ঞ তৈরি করছি এবং স্থানীয় কর্মীদের যৌথ কাজে যুক্ত করছি।

কাজাখস্তানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং এ প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, প্রথমত, এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আমাদের শর্তাবলি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের অনুরূপ চুক্তিগুলোর থেকে ভিন্ন নয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত পদ্ধতি। সাধারণত কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সংশ্লিষ্ট ঋণও প্রদান করা হয়।

পুতিনের ভাষায়, অবশ্যই এটি আমাদের জন্যও লাভজনক। কারণ আমরা এই অর্থ হারাচ্ছি না বা কাউকে দিয়ে দিচ্ছি না; আমরা ঋণ দিচ্ছি। এই অর্থ সুদসহ রুশ কোষাগারে ফিরে আসবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ীই সুদ নেওয়া হবে এবং সেই সুদের হারও যুক্তিসঙ্গত।

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাশেম জোমার্ত তোকায়েভ বলেন, আজ স্বাক্ষরিত বালখাশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে এ সমর্থনের জন্য তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে ধন্যবাদ জানান।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক করপোরেশন রোশাটম প্রকল্পটির প্রধান নির্মাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এতে তারা চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন, ফ্রেন্স ইউটিলিটি ইডিএফ এবং কোরিয়া হাইড্রো এন্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার-কে পিছনে ফেলেছে বলে কাজাখস্তানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে।

কাজাখস্তানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলমাসাদাম সাতকালিয়েভ সাংবাদিকদের জানান, দুটি ভিভিইআর-১২০০III প্ল্যাস রিঅ্যাক্টরসমৃদ্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নিরাপত্তা ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

তার মতে, ২০২৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ২০৩৪ সালের শুরুতে প্রথম রিঅ্যাক্টর চালু করা হবে।

সোভিয়েত আমলে শত শত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান ছিল কাজাখস্তান। এসব পরীক্ষার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়েছে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক অনাস্থা তৈরি হয়েছে। নিজস্ব অনেক পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কাজাখস্তান বর্তমানে রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।

তবে, দেশটির জ্বালানি চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও ২ কোটি জনসংখ্যার দেশটি এখনো মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এর সঙ্গে কিছু জলবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস যুক্ত হয়েছে।

এদিকে, দেশটি দ্বিতীয় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও অনুমোদন দিয়েছে যেখানে প্রধান নির্মাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন।

সূত্র: রয়টার্স/তাস

কেএম