Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

মৌলভীবাজারে অটোরিকশা-মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও মাইক্রোবাসচালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।...
Homeকৃষি খাতে বাজেটের ৯.৫ শতাংশ বরাদ্দ চান অর্থনীতিবিদরা

কৃষি খাতে বাজেটের ৯.৫ শতাংশ বরাদ্দ চান অর্থনীতিবিদরা

বছর তিনেক ধরেই বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও তা কমতে কমতে চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে, আসন্ন অর্থবছরে কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কৃষি কার্ড প্রণয়ন, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা, কৃষি বিমা এবং কোল্ড চেইন স্থাপনসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সম্মেলনকক্ষে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি এবং অধ্যাপক মো. ওয়াকিলুর রহমান।

এ সময় কৃষি খাতে মূল বাজেটের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হলে এ বরাদ্দ দাঁড়াবে প্রায় ৮৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এই দাবির প্রেক্ষাপটে নানা যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছে কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি মো. আহসানুজ্জামান লিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

মূল উপস্থাপনায় কৃষি খাতের বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি মৎস্য, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং কৃষকের আয় বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের মৎস্য রয়েছে। এর মধ্যে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা এবং প্রণোদনা, সহজ ঋণ ও আর্থিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচ সুবিধা, যান্ত্রিকীকরণ ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার। যা আসন্ন বাজেটে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এসব কাজে বরাদ্দও বাড়াতে হবে।

উপস্থাপনায় সামগ্রিক বরাদ্দের সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোরও দাবি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৭ হাজার ২৪১ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা নতুন বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কৃষিতে এবারে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এজন্য কৃষি উপকরণ যেমন সার, বীজ, যন্ত্রপাতি ও সেচের জন্য ভর্তুকি বাড়াতে হবে। এছাড়া এসডিজির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে বরেন্দ্র এলাকায় কৃষি পুনর্জাগরণ, বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন, কৃষি বিমা চালু করা, উত্তরাঞ্চলে কৃষি পণ্য রপ্তানি জোন প্রতিষ্ঠা, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে স্টার্ট-আপ প্রকল্প নেওয়া, সমবায় সমিতির গণজাগরণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এই কাজের জন্য অবশ্যই আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে কৃষি যন্ত্র নির্মাণ, শিল্প স্থাপনে। স্থানীয়ভাবে শিল্প নির্মাণে উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়া, কৃষিযন্ত্রের যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদন উৎসাহিত করতে কর রেয়াত ও আর্থিক সহায়তা, আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠা করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাত, সংরক্ষণ ও রপ্তানি উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। এজন্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, অঞ্চলভিত্তিক বিশেষ প্রক্রিয়াজাত এলাকা গঠন, মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা, চিনি ও পাটশিল্পে বাড়তি গুরুত্ব, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পকে ভঙ্গুর দশা থেকে তুলে আনা, মৌসুমি ফসল নষ্ট রোধে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

পাশাপাশি আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, জাত উন্নয়ন, পুষ্টিকর পশুখাদ্য উৎপাদন ও ভর্তুকি, রোগ প্রতিরোধে ভেটেরিনারি সেবার বিস্তারের মাধ্যমে পশু সম্পদ খাতের উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। পোলট্রি খাতের উন্নয়নে করপোরেট করহার কমানে, ফিডের দাম নিয়ন্ত্রণ, সহজ ঋণ ও প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানেরও সুপারিশ করা হয়। বাজেটে মৎস্য খাতের উন্নয়নেও আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের এডিপির তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কৃষি খাতে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এডিপিতে কৃষি খাতের ১২২টি চলমান প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন এবং প্রায় ২ হাজার ৯ কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমানে চাহিদার প্রকৃত তথ্য না থাকায় কৃষি পণ্য অপচয় হচ্ছে। কৃষক কার্ড চালু করার উদ্দেশ্য এ অপচয় কমানো। কৃষককার্ড পাইলটিং হচ্ছে। পুরোপুরিভাবে চালু হলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হবে, কোন কৃষি পণ্য অপচয় হবে না।

এনএইচ/এমএএইচ/