Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

গরমে খেতে পারেন পুদিনার পরোটা

একটি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার পুরো দিনটাকেই সুন্দর করে তুলতে পারে। কিন্তু সকালের ব্যস্ততা আর তাড়াহুড়ার মধ্যে অনেক সময়ই বোঝা যায় না কী রান্না...
Homeকোন পানীয় মন ভালো করে?

কোন পানীয় মন ভালো করে?

আজ ৬ মে, জাতীয় পানীয় দিবস । এই দিনটি মানুষকে উৎসাহ দেয় প্রিয় পানীয় নিয়ে একটু সময় কাটাতে, আরাম করতে এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি স্বস্তি খুঁজে নিতে। ইতিহাস অনুযায়ী এই দিনের সূচনা প্রায় ১৯২১ সালের দিকে, যখন এটি ‘বোতলজাত কার্বনেটেড পানীয় দিবস’ নামে পরিচিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি বাড়ে এবং এখন এটি সব ধরনের পানীয় উদ্‌যাপনের একটি বৈশ্বিক দিন হিসেবে পালিত হয়।

বর্তমানে এই দিনটি শুধু আনন্দ উদ্‌যাপন নয়, বরং সচেতনতার বার্তাও বহন করে। পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানীয় শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এটি আমাদের মন ও মেজাজের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন পানীয় মন ভালো করে-

কফি

কফি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে। এটি ডোপামিন নামক ‘ফিল গুড হরমোন’ বাড়াতে সাহায্য করে, যা আমাদের আনন্দ, উদ্দীপনা ও ফোকাস বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি ক্লান্তি কমায় এবং সাময়িকভাবে মন ভালো রাখে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি-তে থাকা এল-থিয়ানিন মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। এটি ক্যাফেইনের সঙ্গে মিলে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি করে, যেখানে মন সতেজ থাকে কিন্তু অতিরিক্ত উত্তেজনা হয় না। নিয়মিত গ্রিন টি পান উদ্বেগ কমাতে এবং মুড স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

jago

হট চকলেট

হট চকলেট শুধু স্বাদের জন্য নয়, মুড ভালো করার ক্ষেত্রেও কার্যকর। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং এন্ডরফিন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা সুখের অনুভূতি তৈরি করে। তাই মন খারাপ থাকলে এক কাপ হট চকলেট অনেকটা মানসিক আরামের মতো কাজ করে।

ফলের জুস ও স্মুদি, প্রাকৃতিক এনার্জি

ফল দিয়ে তৈরি স্মুদি বা জুসে থাকে ভিটামিন ও মিনারেল, যা শরীর ও মস্তিষ্কে দ্রুত শক্তি জোগায়। কলা, স্ট্রবেরি বা কমলার মতো ফল সেরোটোনিন হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে, যা মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং ভালো মুড তৈরি করে।

প্রশান্তির পানীয় দুধ

দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে শান্ত করে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে। আর ভালো ঘুম মানেই ভালো মুড। তাই দুধকে অনেক সময় ‘কমফোর্ট ড্রিংক’ বলা হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হলো পানি

পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন সরাসরি মুড খারাপ করে দিতে পারে। এতে ক্লান্তি, মাথা ভার এবং বিরক্তিভাব দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং মন সতেজ থাকে।

বিজ্ঞান বলছে, আমাদের মুড মূলত নির্ভর করে ডোপামিন, সেরোটোনিন ও এন্ডরফিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর। কিছু পানীয় এই রাসায়নিকগুলোর নিঃসরণ বাড়ায়, আবার কিছু মানসিক চাপ কমায়। তাই মুড ভালো হওয়া কোনো কল্পনা নয়, বরং শরীরের ভেতরের একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া।

সব পানীয়ই সমানভাবে মুড ভালো করে না। পানীয়গুলো সঠিকভাবে গ্রহণ করলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়। তাই আজকের পানীয় দিবসে শুধু স্বাদ নয়, শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াও জরুরি।

সূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েবএমডি, মেডিকেল নিউজ টুডে

এসএকেওয়াই