আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেছেন, খাল খনন প্রকল্পের নামে সারাদেশে অনিয়ম ও লুটপাট চলছে। খনন করা খালের পাশেই নতুন করে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় মাধবপাশা বাজার এলাকায় এবি পার্টির কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, যেসব খাল অন্য সরকারি দপ্তর ইতোমধ্যে খনন করেছে, সেগুলোর পাশেই আবার নতুন করে খনন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব খাল প্রকৃতপক্ষে খননের প্রয়োজন এবং যেগুলোর জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, খাল খনন প্রকল্পের নামে সারাদেশে ‘লুটপাটের স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী এক কিলোমিটার খাল খননে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক প্রকল্পে একই দূরত্বের খাল খননের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণের জন্য ৪১২ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে সারাদেশে ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। সরকার মানুষের জন্য পাঁচ টাকা ব্যয় করে, আর তা প্রচারে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব প্রকল্প মূলত লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং বিলবোর্ড নির্মাণের কাজ সরকারি দলের ব্যক্তিদের কাছে যাবে। ফলে এ প্রকল্পের অর্থ থেকে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
মাদকের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং প্রায় প্রতিটি মহল্লাই মাদকের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু অংশের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বী, কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, মো. মোহেবর, সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব মো. জামাল আকনসহ অন্যরা।
শাওন খান/এএইচ/এমএস

