তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই এয়ার কুলার ব্যবহার করেন। এসির তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় এটি বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এয়ার কুলার চালানোর কিছুক্ষণ পর ঘরে ভ্যাপসা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হয়। এতে শুধু অস্বস্তিই নয়, ঘরের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে। কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ নিলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কেন এয়ার কুলারে ভ্যাপসা গন্ধ হয়?
এয়ার কুলারের পানির ট্যাংকে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও শৈবাল জন্মাতে পারে। এছাড়া কুলিং প্যাডে ধুলাবালি জমে গেলে এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। অনেক সময় ঘরের পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলেও কুলার চালানোর ফলে বাতাস ভারী ও ভ্যাপসা মনে হতে পারে।
যা করবেন
১. পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করুন
সপ্তাহে অন্তত একবার ট্যাংকের পানি সম্পূর্ণ ফেলে দিন। এরপর হালকা সাবান বা জীবাণুনাশক দ্রবণ দিয়ে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। এতে জীবাণু ও দুর্গন্ধের উৎস দূর হবে।
২. কুলিং প্যাড ধুয়ে নিন
কুলিং প্যাডে ধুলা ও ময়লা জমলে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়ায়। মাসে অন্তত একবার প্যাড পরিষ্কার করুন। প্রয়োজন হলে পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত প্যাড পরিবর্তন করুন।
৩. সবসময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন
ট্যাংকে নোংরা বা দীর্ঘদিন রাখা পানি ব্যবহার করবেন না। প্রতিদিন বা একদিন পরপর পানি পরিবর্তন করলে দুর্গন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
৪. ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন
এয়ার কুলার ব্যবহারের সময় একটি জানালা বা দরজা সামান্য খোলা রাখুন। এতে বাইরের বাতাস প্রবেশ করবে এবং ঘরের আর্দ্রতা ভারসাম্যে থাকবে।
৫. ফিল্টার পরিষ্কার করুন
অনেক কুলারে ধুলা আটকানোর জন্য ফিল্টার থাকে। ফিল্টার ময়লা হয়ে গেলে বাতাসের মান খারাপ হয় এবং দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।
৬. দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে শুকিয়ে রাখুন
কুলার কয়েকদিন বন্ধ রাখার আগে ট্যাংকের পানি ফেলে দিন এবং ভেতরের অংশ ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এতে ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ কমে যাবে।
সতর্ক থাকুন
ভ্যাপসা গন্ধকে ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে, যা শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এয়ার কুলার ব্যবহার করলে গরমেও ঘর থাকবে শীতল, সতেজ ও আরামদায়ক।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএসকে

