Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই যুবক নিহত

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার...
Homeচাঁদপুরে সড়কের নির্মাণকাজ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

চাঁদপুরে সড়কের নির্মাণকাজ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

চার বছর আগে শুরু হওয়া চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা-এর নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এদিকে ঠিকাদারকে না পেয়ে চুক্তি বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ইটের তৈরি হেরিং বোন বন্ড ছিল। ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই সড়ক নির্মাণ করার জন্য দেড় কিলোমিটার করে দুই ভাগে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ পায়। তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মতলব ট্রেডিং। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোফাজ্জল হোসেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করার জন্য ওই বছর ২ মে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে অজ্ঞাত কারণে লাপাত্তা হয়ে যায়। তাকে বার বার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি এলজিইডি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত যানবাহনও এ সড়কে চলাচল করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর যাতায়াত এবং জেলার ঐতিহ্যবাদী মেহরন দালাল বাড়িতে মন্দিরে আসেন বহু ভক্ত। কিন্তু সড়ক বেহাল থাকায় সবারই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শোয়েব প্রধান বলেন, এই সড়কটি এক সময় ছিল ইটের হেরিং বোন বন্ড। গত ৪ বছর পূর্বে পাকা করণের কাজ শুরু হলেও কাজ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা। এলাকার লোকজনের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে রোগীদের নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

কাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা জব্বার পাঠান বলেন, সড়কের কাজ না করায় গাড়ি চলাচল করতে অসুবিধা হয়। এই সড়ক দিয়ে কান্দিরপাড়, চারটভাঙা, মেহরন ও কাজিয়ারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলাচল করে। দ্রুত কাজটি শেষ করার দরকার।

একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, এই সড়ক দিয়ে শত শত কৃষক তাদের ফসল বাড়িতে নেয়। কিন্তু রাস্তার এই বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।

মেহরন গ্রামের অটোকিশা চালক ইদ্রিস বলেন, এই সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল খুবই কষ্টকর। প্রতিমাসেই গাড়ি ঠিক করতে হয়। বিশেষ করে রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ওই গ্রামের দালাল বাড়ির ইজিবাইক চালক সমুন চন্দ্র দাস বলেন, ভোটের সময় অনেকেই এসে সড়কের কাজ করে দিবে বলে ওয়াদা করলেও এখন তাদের দেখা নেই। আমাদের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না।

এই সড়কের আরেক অটোরিকশাচালক শৈলন দাস বলেন, এলাকার সবগুলো সড়কের কাজ হলেও এটি বন্ধ। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এই সড়কের কাজ রেখে ঠিকাদার পালিয়েছে। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। যানবাহন নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করার দাবি।

বিগত ৪ বছরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ রেখে লাপাত্তা। তারপরেও এখনও কাজটি ওই ঠিকাদার দিয়ে করাতে আশাবাদী মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান।

তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা থেকে ঠিকাদারকে বহুবার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তাকে না পাওয়া গেলে নিয়মানুসারে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

শরীফুল ইসলাম/এনএইচআর/এমএস