Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

পাবনার হাটে এখনো জমেনি বেচাকেনা

পাবনায় এখনো জমে ওঠেনি কোরবানির পশু বেচা-কেনার হাট। হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাসা থাকলেও কেনা-বেচা হচ্ছে কম। তবে বেচাকেনা যেটুকু হচ্ছে তাতে গরুর মণ প্রতি দর...
Homeচীনা প্রেসিডেন্টের চায়ের আড্ডায় সম্প্রীতির বার্তা

চীনা প্রেসিডেন্টের চায়ের আড্ডায় সম্প্রীতির বার্তা

বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা নানামুখী সংকটের মধ্যেই মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রুশ-মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল ভবনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চা পান করান শি জিনপিং। এটি ছিল পুতিনের ২৫তম চীন সফরের সমাপ্তিতে এক উষ্ণ ব্যক্তিগত আয়োজন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফরের সময় শি তাকে ঝংনানহাই কমপাউন্ডে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে তারা হেঁটে বেড়ানোর পর ব্যক্তিগত চায়ের আড্ডায় বসেন এবং নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।

বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক যোগাযোগে চীনা সাংস্কৃতিক উপাদানের উপস্থিতি বিরল নয়। তবে, বিদেশি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শি জিনপিং-এর চায়ের আড্ডা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছে।

চায়ের আড্ডা

উজ্জ্বল হলুদ রঙের চা সেটে পরিবেশিত চায়ে আড্ডায় সফরের অর্জনগুলো মূল্যায়ন করেন শি ও পুতিন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।

শি বলেন, দুই পক্ষের অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক অবশ্যই উচ্চমানের উন্নয়নের গতি ধরে রেখে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই সফরকে ‘সফল’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন পুতিন। এর আগে ওই দিনই দুই নেতা ২৫ বছর আগে স্বাক্ষরিত চীন-রাশিয়া প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। অর্থনীতি, বাণিজ্য, গণমাধ্যম ও শিক্ষা খাতসহ ২০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরও করেন শি-পুতিন।

এটি দুই নেতার প্রথম চা বৈঠক নয়। দুই বছর আগেও ঝংনানহাইয়ে পানির ধারে বসে তারা চা পান করেছিলেন। সে সময় দুজনেই আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই স্বস্তিদায়ক পরিবেশে আলোচনা করেছিলেন।

বিদেশ সফরেও শি বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে চায়ের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, বিশেষত যেসব দেশে চা-পানের সংস্কৃতি রয়েছে। গত বছরের মে মাসে মস্কো সফরে গিয়ে তিনি ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে চা পান করেন।

চায়ের প্রতি বিশেষ অনুরাগী শি জিনপিংয়ের কাছে চা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়। চীনে উৎপত্তি হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই পানীয়কে তিনি চীনা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দূত হিসেবে দেখেন।

চা আতিথেয়তা ও সম্মানের প্রতীক যা শান্ত ও মার্জিত পরিবেশ তৈরি করে এবং খোলামেলা আলোচনায় সহায়তা করে। পুতিন ছাড়াও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতা তো লামসহ আরও অনেক বিদেশি নেতা শি-এর চা আড্ডায় অংশ নিয়েছেন।

চীন আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শি প্রায়ই বিদেশি অতিথিদের উন্নতমানের চা ও নান্দনিক চা সেট উপহার দেন। উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালের ব্রিকস সম্মেলনের কথা উল্লেখ করা যায়। ওই সম্মেলনে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের পাঁচ ধরনের উন্নতমানের চা সম্বলিত বিশেষ বাক্স নেতাদের উপহার দেন শি।

চা অনুরাগী শি

ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রবক্তা শি জিনপিং চীনের চা শিল্পের উন্নয়নে ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং চা-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহ দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ফুজিয়ান প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শি। এই অঞ্চলে ১,৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো চা চাষের ইতিহাস রয়েছে। এছাড়াও এখানে ব্ল্যাক, হোয়াইট ও উলংসহ নানা ধরনের চা উৎপাদিত হয়।

একবার শি বলেছিলেন, আমি ফুজিয়ান প্রদেশে সাড়ে ১৭ বছর কাজ করেছি। সেই সময়ে আমি মূলত গংফু চা পান করতাম। তবে আমার এত অবসর সময় ছিল না।

ফুজিয়ান এবং পরে ঝেজিয়াং প্রদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে চা সংস্কৃতি ও শিল্প সম্পর্কে গভীর বাস্তব জ্ঞান দেয়। ঝেজিয়াং বিশেষভাবে বিখ্যাত লংজিং চায়ের জন্য পরিচিত।

১৯৮৮ সালে শি ফুজিয়ানের অনুন্নত নিংদে অঞ্চলের পার্টি প্রধান হন। তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে সাধারণ চা পাতাই স্থানীয় অর্থনীতি বদলে দিতে পারে এবং দারিদ্র্য দূর করতে সহায়তা করতে পারে। এই অঞ্চলের তানইয়াং গ্রাম এক ধরনের ব্ল্যাক টির জন্য বিখ্যাত যা একসময় ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছেও জনপ্রিয় ছিল। এই অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চায়ের উৎপাদন ও মান বাড়ানোর পক্ষে জোর দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলার আহ্বান জানান শি জিনপিং। বর্তমানে তানইয়াং ও আশপাশের বহু গ্রাম চা শিল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ঝেজিয়াংয়ের প্রাদেশিক নেতা এবং পরে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও শি বিভিন্ন প্রদেশের চা বাগান পরিদর্শন করেন। তিনি চা সংস্কৃতি, শিল্প ও প্রযুক্তির সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতিতে চায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

চায়ের আড্ডায় সম্প্রীতির বার্তা

শি একবার চীনা ভাষায় ‘চা’ শব্দটির গঠন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এর মধ্যে মানুষ, ঘাস ও গাছের প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সম্প্রীতির প্রাচীন চীনা দর্শনকে প্রতিফলিত করে। তার কাছে চা শুধু কূটনৈতিক বৈঠকে উষ্ণতা যোগ করা পানীয় নয়, এটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংযোগ ও সংলাপের মাধ্যম।

২০২৪ সালের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার কাজানে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে শি প্রাচীন ‘গ্রেট টি রোড’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন।

শি জিনপিং বলেন, প্রায় ৪০০ বছর আগে দুই দেশকে সংযুক্ত করা গ্রেট টি রোড কাজানের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে চীনের উইয়ি পর্বতাঞ্চলের চা রাশিয়ার বহু ঘরে পৌঁছেছিল।

১৭শ শতকে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যপথ একসময় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল এবং দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চা সংস্কৃতির বিস্তার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অস্ট্রেলিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের বিশেষজ্ঞ গ্যারি সিগলেই বলেন, “চীন বলে ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি’। অর্থাৎ আমরা ভিন্ন হতে পারি, কিন্তু আমাদের সংলাপে যুক্ত হতে হবে-আর চা সেটির প্রতীক।”

চা বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংলাপের সেতু হিসেবেও কাজ করে। একই সঙ্গে এটি দেখায় পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে ভিন্ন সংস্কৃতিগুলো একে অন্যকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

২০১৫ সালে ব্রিটেন সফরের সময় এক ভোজসভায় শি বলেছিলেন, চীন চায়ের জন্মস্থান। আর ব্রিটেন বিকেলের চা সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

শি মনে করেন, সব সভ্যতাই সমান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। তিনি একবার চা ও বিয়ারের তুলনা করে পূর্ব ও পশ্চিমা সভ্যতার সহাবস্থানের উদাহরণ দেন।

২০১৪ সালে বেলজিয়ামের ব্রুজে ইউরোপ কলেজে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, চীনারা চা পছন্দ করে আর বেলজিয়ানরা বিয়ার ভালোবাসে। আমার কাছে সংযত চা-পানকারী এবং উদ্দীপ্ত বিয়ারপ্রেমী—দুজনই জীবন ও বিশ্বকে বোঝার ভিন্ন উপায়কে প্রতিনিধিত্ব করে এবং দুটিই সমানভাবে মূল্যবান।

শি জিনপিং-এর ভাষায়, পূর্বের ‘সম্প্রীতি বজায় রেখে বৈচিত্র্য রক্ষা” কিংবা পশ্চিমের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’—উভয়ের মূল কথা হলো, ‘মানব সভ্যতার সব ফুল যেন একসঙ্গে বিকশিত হতে পারে, সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’।”

সূত্র: সিনহুয়া

কেএম