Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ১১ জন গ্রেফতার

  চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ নারী ও ছয় পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে)...
Homeচোখে পড়ে না পতাকা-ব্যানার, নেই উম্মাদনা

চোখে পড়ে না পতাকা-ব্যানার, নেই উম্মাদনা

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ২৪ দিন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে ৪৮ দেশ। তিন দেশের যৌথ আয়োজনও প্রথমবার। কেবল ফুটবলামোদীদেরই নয়, বিশ্বের কোটি কোটি ক্রীড়ামোদীর অপেক্ষা শেষ হতে চলছে। ১১ জুন থেকে এক মাসের বেশি সময় সবার নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন ভেন্যুতে।

বিশ্বকাপ বরণ ও উপভোগ করতে বিশ্বব্যাপী ক্রীড়াভক্তরা তৈরি হচ্ছেন। নানা আয়োজনে খেলা দেখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দৌড় বাছাই পর্যন্ত হলেও উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উম্মাদনায় পিছিয়ে থাকে না দেশ। বরং বিশ্বকাপ না খেলা দেশগুলোর মধ্যে বেশি উৎসাহ দেখানোর তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে লাল-সবুজের ফুটবল ভক্তরা।

তবে এবার যেন একটু ব্যতিক্রমই চোখে পড়ছে। মাত্র ২৪ দিন আগেও বিশ্বকাপ নিয়ে তেমন আলোচনা নেই বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে। আগের বিশ্বকাপগুলোতে দেখা গেছে এক-দেড় মাস বাকি থাকতেই খেলা উপভোগ নিয়ে নানা আয়োজন শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রিয় দলগুলোর পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। দালানে, গাছের ডালে কিংবা সড়কের ধারে উড়তে থাকে বিভিন্ন দেশের পতাকা।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই পতাকার ভিড়ে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলই থাকে এগিয়ে। কোথাও হলুদে ছেয়ে যায়, কোথাওবা আকাশি-নীলে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখনো সেভাবে কোনো দলের পতাকা বা ব্যানার চোখে পড়েছে না। এমনকি রাস্তায় রাস্তায় পতাকা বিক্রি করতেও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ভিড় নেই জার্সির দোকানে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিভি কেনারও হিড়িক পড়তো। তেমনও চোখে পড়ছে না এবার। কেন এমন হচ্ছে সেই আলোচনাও শুরু হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও পোড় খাওয়া সমর্থকদের সাথে আলাপ করে বিশ্বকাপ নিয়ে উম্মাদনা এখনো শুরু না হওয়ার কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। বড় একটা কারণ হতে পারে, বাংলাদেশে বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য অত্যধিক বেশি। বিজ্ঞাপনের বাজারও মন্দা। এছাড়া ম্যাচের সময়সূচি বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য যুতসই না। অনেক ম্যাচ ভোর ৪টা বা তার পরে। ফলে কোনো চ্যানেল স্বত্ব কিনতে সেভাবে আগ্রহ দেখায়নি।

দর্শকদের যতই প্রস্তুতি আর উম্মাদনা থাক-খেলা দেখতে না পারলে সবকিছুই মাটি। এসব কারণেই মানুষের অনাগ্রহ থাকতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। যতটুকু ধারণা, শেষ পর্যন্ত সম্প্রচার জটিলতা কাটবে। তবে এতে যে দর্শকদের প্রস্তুতির ঢিমেতাল তৈরি হয়েছে, তার প্রমাণ চারিদিকের পরিবেশ। বিশ্বকাপের সরাসরি সম্প্রচারই যে উত্তেজনার মূল চালিকাশক্তি।

বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা অনেক সময় আইকন খেলোয়াড়দের নিয়ে আবেগীয় বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিগত কয়েকটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উম্মাদনার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি, নেইমার ও রোনালদো।

আরও পড়ুন>ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের আগ্রহ এবার এত কম কেন?

তবে এবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দুই তারকা মেসি ও নেইমারের যুগ শেষের পথে। নেইমারতো দল থেকে বাদ পড়তে পড়তে টিকে গেছেন কোনোমতে। এই দুই তারকা এবারের বিশ্বকাপে কতটা যাদু দেখাতে পারবেন, তা নিয়েও অনেকের সংশয় আছে। শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও চলে গেছেন বুড়োদের কাতারে। সবমিলিয়েই এবার বড় তারকাদের অনেককে নিয়ে আগ্রহ কম।

অনেকের ধারণা, এসবের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনও বিশ্বকাপ নিয়ে অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার কারণ। ডিজিটাল যুগে স্ট্রিমিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাদা আলাদাভাবে বিশ্বকাপ উপভোগ করে থাকেন অনেকে। তাই সম্মিলিত উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়তেই পারে।

আরেকটি কারণ নিয়ে আলোচনা আছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্ব বাজারে মন্দার প্রভাব দেশের বাজারে পড়া। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপে হয়তো মানুষের মনোযোগ খেলার বিনোদনে আটকে থাকতে পারছে না।

তাছাড়া দেশের ফুটবলের মান ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামাও বড় একটা কারণ। তাতে পুরো ফুটবল নিয়েই আকর্ষণ কমে যেতে পারে বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। জাতীয় দলের খারাপ পারফরম্যান্স, ফুটবল অবকাঠামোর দুর্বলতা, নিম্নমানের ঘরোয়া আয়োজন খেলাটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমাতে পারে বলেও ধারণা।

তবে এক জায়গায় সবাই একমত যে, বিলম্বে হলেও বিশ্বকাপ নিয়ে উম্মাদনা ঠিকই তৈরি হবে। বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার হবে-সেটা নিশ্চিত হলেই দৃশ্যপট বদলে যাবে। কারণ, ফুটবল এ দেশের মানুষের প্রাণের খেলা। যদিও ফুটবলের আবেগ কখনো কখনো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা কখনোই গভীর কাঠামোগত ছিল না।

টিভিতে দেখানো, তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি হওয়া উচ্ছ্বাস, দলবদ্ধ হয়ে খেলা দেখা-এসব কারণেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে উম্মাদনা তৈরি হয়ে আসছিল। এসবে কিছুটা ছেদ পড়ায় বিশ্বকাপের এবারের আসর ঘিরে মাত্র ২৪ দিন আগেও বাংলাদেশে আলোচনা জমে ওঠেনি। তবে এটি স্থায়ী নয়। সম্প্রচার সমস্যা সমাধান হলে এবং মাঠের লড়াই শুরুর পর প্রতিষ্ঠিত তারকারা কিংবা নতুনরা যদি উঠে আসেন, তাহলে উম্মাদনা ফিরতে সময় লাগবে না।

আরআই/এমএমআর