Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

জনবল থাকলেও স্টেশন নেই দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিসের

কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা দৌলতপুর উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের অগ্নিনিরাপত্তা আজও অনিশ্চিত। এক যুগ আগে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এখনো...
Homeজনবল থাকলেও স্টেশন নেই দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিসের

জনবল থাকলেও স্টেশন নেই দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিসের

কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা দৌলতপুর উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের অগ্নিনিরাপত্তা আজও অনিশ্চিত। এক যুগ আগে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এখনো চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে সামান্য অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে দিন কাটছে এই জনপদের বাসিন্দাদের।

সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে গঠিত ৪৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও মামলাসহ নানা জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

এরপর ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন লিডার, দুজন ড্রাইভার ও ১০ জন ফায়ার ফাইটার নিয়োগ দেয়। কিন্তু গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তারা বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর দপ্তরে কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন।

সর্বশেষ ২০২২ সালে সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বানু ৮২ শতাংশ জমি দান করলে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। তবে চার বছর পেরিয়ে গেলেও জমি সমতল না হওয়া এবং বাজেটের অভাবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।

নদীবেষ্টিত ও কৃষিনির্ভর এ উপজেলায় ছোট-বড় অনেক শিল্পকারখানা থাকলেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে দমকল বাহিনী পৌঁছাতে দেরি হয়, এতে অনেক সময় আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ছোট-বড় অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে গবাদিপশু, যা প্রান্তিক কৃষকদের নিঃস্ব করে দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, ২০০৯ সালে উপজেলার তারাগুনিয়া কৈপাল এলাকায় জমি অধিগ্রহণ ও মামলার জটিলতার পর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালে জমি দান করা হলেও সেখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি। বৃহৎ এ উপজেলায় আমরা সব সময় দুর্ঘটনার ভয়ে থাকি। বিপদ তো বলে-কয়ে আসে না। দ্রুত স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণ প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ফায়ার সার্ভিসের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জমিতে পুকুর থাকায় সেটি সমতল করতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন। বাজেট বরাদ্দ পেলেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্তরা বর্তমানে কুষ্টিয়া স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজেট বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, অনেক আগেই এখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হওয়া উচিত ছিল। জেলার বৃহৎ উপজেলায় এত দিনেও কেন স্টেশন নির্মাণ হয়নি, তা আগের দায়িত্বশীলরা বলতে পারবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জমিসংক্রান্ত জটিলতা শেষ হয়েছে। দ্রুত অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করা হবে।

আল-মামুন সাগর/এফএ/এএসএম