কক্সবাজারের টেকনাফে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোহাম্মদ উল্যাহ (১৯) নামের এক রোহিঙ্গা তরুণ গ্রেফতারের ঘটনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বৃহত্তর ‘উগ্রবাদের’ তৎপরতার ইঙ্গিত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া এবং দিন দিন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, গ্রেফতার তরুণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টিটিপির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। গ্রুপের সদস্যরা ইংরেজি ও আরবিতে লেখালেখি করতো। গ্রেফতারের কিছু সময় পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি ওপেন হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক কিছু জানা আছে তার।
গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্য, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো নেটওয়ার্কের অংশ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়া। সেখানে দিনের বেলায় হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে। তবে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। এ বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
গ্রেফতার ও তদন্ত
গত ৪ মে রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের ২৪ নম্বর জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহকে আটক করা হয়। মোহাম্মদ উল্যাহ আশ্রয়শিবিরের এফ-ব্লকের বাসিন্দা আবদুল করিমের ছেলে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে টিটিপি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই তরুণের টিটিপি-সমর্থিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতার তরুণ বর্তমানে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।
টিটিপি কারা?
আফগানিস্তানের মূল তালেবান গোষ্ঠী ১৯৯৪ সালে দেশটিতে শাসন শুরু করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন আগ্রাসনে তাদের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পালিয়ে যান। সেখানে ২০০৭ সালে বেশ কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী একটি জোট গঠন করে। তারা নিজেদের নাম দেয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এটিই মূলত পাকিস্তান তালেবান হিসেবে পরিচিত।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন খাদ্য সহায়তা কমে আসছে/সংগৃহীত ছবি
টিটিপি পাকিস্তানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করতে চায়। এ উদ্দেশ্য হাসিলে টিটিপি সরাসরি সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে এবং রাজনীতিবিদদের হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। এ বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।—বলছেন বিশ্লেষকরা
টিটিপি ও আফগানিস্তানের তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরেছে আফগান তালেবান। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সীমান্ত পেরিয়ে তাদের দেশে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। তবে আফগান তালেবান শুরু থেকেই পাকিস্তানের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ থেকে ১৪ লাখ। উখিয়া ও টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা শিবিরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ, অস্ত্র, মাদক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন
যেভাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগঠনে জড়াচ্ছে বাংলাদেশি তরুণরা
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমাচ্ছে জাতিসংঘ
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর অর্থদাতা’ তোহা আটক
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্প এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও গোলাগুলির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, হতাশা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অনলাইন প্রচারণা—এসব মিলিয়ে কিছু তরুণ চরমপন্থার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
টিটিপিতে যোগ দিয়ে পাকিস্তানে নিহত বাংলাদেশি তরুণ
তেহরিক-ই-তালেবানে (টিটিপি) যোগ দিয়ে সেনা অভিযানে নিহত বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেনের (২২) পরিবার জানতো তিনি দুবাই প্রবাসী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে ছোট দুধখালী এলাকার আবদুল আউয়াল মোড়লের ছেলে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেনও ছিলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার এবং সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।—বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদটি গুরুত্ব দিয়ে প্রথম প্রকাশ করে দ্য ডিসেন্ট নামে একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। পরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। দ্য ডিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ এপ্রিল উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বোমা হামলায় টিটিপির ৫৪ জন সদস্যের সঙ্গে আহমেদ জোবায়ের নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন।
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেন/সংগৃহীত ছবি
গত দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে অন্তত চারজন বাংলাদেশি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর পাকিস্তানের টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অন্তত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সীমান্ত ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা
টেকনাফ বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোর একটি। একদিকে মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্য, অন্যদিকে সমুদ্রপথ ও পাহাড়ি রুট—সব মিলিয়ে এটি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, অস্ত্রের অবাধ চলাচল এবং সীমান্তবর্তী অপরাধচক্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যদি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিটিপি-ঘনিষ্ঠ কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তবে তা শুধু ক্যাম্প নয়, পুরো সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক
টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার এবং সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ একজন রোহিঙ্গা নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাধারণ তরুণ ও যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভনে টার্গেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভনে যুবক ও তরুণদের সন্ত্রাসী দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ দলে না গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বেকার তরুণ-যুবকরা প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।’
যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী কাজে যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের নতুন পলিকল্পনা থাকতে পারে, যা আমাদের দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি।—ড. ইমতিয়াজ আহমেদ
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকে মনে করেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের ভেতরে হতাশা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
গ্রেফতার তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এটিইউ
মোহাম্মদ উল্যাহর বিরুদ্ধে হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি তদন্ত করছেন টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র তালুকদার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচদিনের রিমান্ড শুরু হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) কর্মকর্তারা আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মামলাটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা ইস্যু জঙ্গি ঝুঁকি বাড়াবে: টিআইবি
টাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় ‘হরকাতুল জিহাদ’
মিয়ানমারের ভারী অস্ত্র রোহিঙ্গাদের হাতে, ক্যাম্পে আতঙ্ক
তিনি বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গ্রেফতার রোহিঙ্গা তরুণ টিটিপির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। গ্রুপের সদস্যরা ইংরেজি ও আরবিতে লেখালেখি করতো। গ্রুপের সদস্যদের ১৬ প্যাজের চ্যাট হিস্ট্রোরি প্রিন্ট করে এজাহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের কিছু সময় পর থেকে ওই যুবকের মোবাইল ফোনটি ওপেন হচ্ছে না। মোবাইল ফোনটি শিগগির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে।’
পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে টিটিপির সশস্ত্র সদস্যদের মহড়া/সংগৃহীত ছবি
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপসহ সিক্রেট অ্যাপসে তারা যোগাযোগ করতো। গ্রুপের এডমিন সবাই বাংলাদেশের বাইরে। সন্দেহ করা হচ্ছে আরও রোহিঙ্গা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তে উঠে আসবে সবকিছু।’
গ্রেফতার তরুণ খুবই মেধাবী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার তরুণ মোহাম্মদ উল্যাহ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি পড়াশোনা করতো। সম্প্রতি সে তার দেশের (মিয়ানমার) একটি ইংলিশ কোর্স অনলাইনে সম্পন্ন করেছে। সে খুবই মেধাবী। ধারণা করা হচ্ছে, সে আরও কয়েকজনকে টিটিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।’
নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে
কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্যাম্পগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রোবাস্ট টহলের পাশাপাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো তৎপরতা মোকাবিলায় পুলিশ তৎপর।’
দেশের আর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা আলাদা জগৎ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি তৎপরতা বা সদস্য সংগ্রহ সহজ। কারণ, সেখানে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার জায়গাগুলো খুব সমন্বিতভাবে হয় না। ক্যাম্পের ভেতরে সার্বক্ষণিক অফিসার লেভেলের কর্মকর্তারা থাকেন না। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মেলানো যাবে না। ওটা (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) একটা আলাদা জগৎ।’
সাধারণ তরুণ ও যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভনে টার্গেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভনে যুবক ও তরুণদের সন্ত্রাসী দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ দলে না গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বেকার তরুণ-যুবকরা প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।—বলছেন শীর্ষ একজন রোহিঙ্গা নেতা
তিনি বলেন, ‘যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী কাজে যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের নতুন পলিকল্পনা থাকতে পারে, যা আমাদের দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুব দ্রুত তাদের রুখতে সক্ষম হবে আশা করা যায়।’
‘দেশের ভেতরে হোক কিংবা আঞ্চলিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে এই ছেলের (মোহাম্মদ উল্যাহর) বা এদের যোগাযোগটা থাকে। এ ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটু তৎপর হতে পারে, তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রয়োজন হলে মিয়ানমারের সঙ্গে (যোগাযোগ) করতে পারা যাবে কি না জানিনা, তবে আঞ্চলিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে পারে। কারণ, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে তাদের একটা তৎপরতা থাকতে পারে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ। আমরা সাহায্য চাইতে পারি অন্য দেশগুলো কাছে’—এ প্রসঙ্গে যোগ করেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
টিটি/এমকেআর

