কোরাবানির পশু কেনা এবং চাকু ছুরিতে শান দেওয়া শেষে পশুর মাংস স্বাচ্ছন্দ্যে কাটার জন্য খাইট্টা (গাছের গুঁড়ি) কেনার জন্য ছুটছে মানুষ। কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ‘খাইট্টা’। এবার সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত খাইট্টা (গাছের গুঁড়ি) প্রস্তুত করেছে সো মিলসহ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে গতবারের তুলনা এবার কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে খাইট্টা।
যারা খাইট্টা বিক্রি করছেন তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। স্কুল কলেজ ছুটি থাকায় বাড়তি আয়ের আশায় পাড়ায়, মহল্লায়, মোড়ে ও বাজারে খাইট্টার পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
তারা জানান, সাধারণত তেঁতুল ও বেল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয় খাইট্টা। এলাকাভেদে এটি ‘কাটলি’, ‘খুটা’, ‘ডুম’, ‘খাইট্টা’ ইত্যাদি নামে পরিচিত। কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারও চাহিদা বেড়েছে। দিনাজপুরের গ্রামীণ ও শহরের হাটবাজার এবং পাড়া মহল্লার মোড়সহ সবখানে খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর শহরের শেখ ফরিদ গোরস্তান মোড়ের মৌসুমী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, যারা কোরবানি করেন তারা এই খাইট্টা কিনে থাকেন। তাই চাহিদা বাড়ে। কাঠভেদে এটির দামের ভিন্নতা রয়েছে। তবে দিনাজপুরে তেঁতুল ও বেল গাছের খাইট্টাই বেশি চাহিদা। গতবারের চেয়ে এবার দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এবরা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।
ইউনুস আলী ইমান নামের আরেক বিক্রেতা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তেঁতুল ও বেলগাছ কিনে ‘খাইট্টা’তৈরি করি। এবার বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার-আকৃতি অনুযায়ী একেকটি খাইট্টার ওজন ৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আমিনুল ইসলাম নামে এক সো মিলের মালিক বলেন, আগে থেকেই তেঁতুল ও বেল গাছ কিনে রাখি। কোরবানির আগে ‘খাইট্টা’ প্রস্তুত করি। লাভও ভালো হয়। মানুষ বেমি দামাদামী করে না। তাই প্রতি বছরই প্রস্তুত করি।
আতাউর রহমান নামে এক ছাত্র পুলহাটে বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে ‘খাইট্টা’ সাজিয়ে বসেছে। সে জানায় স্কুল বন্ধ থাকায় খাইট্টা বিক্রি করছি। এতে তার ঈদের খরচ বের হয়ে যাবে।
আসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, দুই বছর আগে তেঁতুল কাঠের একটি খাইট্টা নিয়েছিলাম। কিন্তু যত্নের অভাবে নষ্ট হয়েছে। এবার ১২ কেজি ওজনের একটি খাইট্টা কিনলাম।
শহরের শেখ ফরিদ গোরস্তান মোড়ে আনোয়ার হোসন নামে এক ক্রেতা বলেন, গরু কেনা হয়েছে, চাকু ছুরি শান দেওয়া হয়েছে। এখন তেঁতুল কাঠের খাইট্টা কিনলাম। এখন অপেক্ষার পালা।
এমদাদুল হক মিলন/এএইচ/এমএস

