চীনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত এই রায়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে চলমান কঠোর দুর্নীতি দমন অভিযানের তীব্রতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেনাবাহিনীতে ব্যাপক দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন। এই অভিযান চীনের এলিট রকেট ফোর্স পর্যন্ত পৌঁছায়, যারা পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
এর আগে ২০২৩ সালে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয় এবং সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, লি শাংফু বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন এবং অন্যদের ঘুষ দিতে সহায়তা করেছিলেন। তদন্তে আরও দেখা যায়, তিনি রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং নিজের ও অন্যদের জন্য অবৈধভাবে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, ওয়েই ফেংহে-র বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে তদন্তে জানা যায়, তিনি বিপুল অর্থ ও সম্পদ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।
এসব কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত গুরুতর এবং ব্যাপক ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই রায়ে দুই বছরের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। চীনে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে দুই বছরের স্থগিতাদেশ সাধারণত এই অর্থে দেওয়া হয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কোনো অপরাধ না করলে শাস্তি পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। এই ক্ষেত্রে সাজা পরিবর্তনের পর তাদেরকে আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে, যেখানে কোনো প্যারোল বা সাজা হ্রাসের সুযোগ থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই চলমান সামরিক দুর্নীতি দমন অভিযান সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম

