Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeনাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, ফ্রিজে জমে বাবার ভালোবাসা সন্তানদের অপেক্ষা

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, ফ্রিজে জমে বাবার ভালোবাসা সন্তানদের অপেক্ষা

মাহজাবীন তাসনীম রুহী

ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। সিলেটের বন্দরবাজারের ফুটপাত থেকে শুরু করে কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল সবখানেই এখন ঘরমুখী মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততার মধ্যেও সুবিদবাজারের মামার বাসায় বসে পড়াশোনার টেবিলে ঠিক মন বসাতে পারছেন না মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী মাহজাবীন তাসনীম রুহী। ওপাশ থেকে গ্রামের বাড়ি থেকে বাবার ফোন, ‘মা রে, তোদের কলেজের ক্লাস কি ছুটি হইছে? তোর ছোট ভাইকেও সঙ্গে নিস। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় ক্যালেন্ডার উল্টাই আর বলি কবে চোখভরে দেখব তোদের, কখন রওনা দিবি?’

রুহীর ছোট ভাই আশিকুল ইসলাম হামিম পড়েন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। দুই ভাই-বোনেরই মন এখন পড়ে আছে গ্রামের বাড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি রুহী নিজের খরচের জন্য সিলেটে টিউশনিও করেন। প্রতিদিন টিউশনি শেষে মামার বাসায় ফেরার পথে যখনই বাড়ির কথা ভাবেন, চোখের সামনে ভেসে ওঠে মা-বাবার সেই ব্যাকুল মুখ। গত কয়েকদিন ধরে মায়ের একটাই প্রশ্ন, ‘আর কয় দিন পর তোরা আসবি?’ এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়িটিতে এখন সাজ সাজ রব। ছেলেমেয়ে বাড়ি আসবে এই খুশিতে বাবার যেন ক্লাস শেষে বাড়িতে আসার ক্লাান্তিই গায়েব হয়ে গেছে।

গতকালই গ্রামের বাজার থেকে সবচেয়ে বড় রুই, পাঙ্গাশ মাছ আর গরুর মাংস, শোলমাছ, মুরগির মাংস কিনে এনেছেন। মা পরম যত্নে সেগুলো কেটে ফ্রিজে তুলে রাখছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে এই ফ্রিজগুলো শুধু খাবার সংরক্ষণের জায়গা নয়, ঈদের আগে এগুলো হয়ে ওঠে সন্তানের প্রতি মা-বাবার পুঞ্জীভূত ভালোবাসার সিন্দুক। সারাবছর টিউশনি, ক্লাস আর পড়াশোনার চাপে ক্লান্ত রুহী আর হামিমকে ঈদের এই কটা দিন মা মুখে তুলে পেটপুরে নিজের হাতে রেঁধে খাওয়াবেন, এটাই মা-বাবার পরম তৃপ্তি।

ঈদের আগে নিজের শেষ টিউশনি শেষ করে ব্যাগ গোছাতে গোছাতে রুহী বলছিল, ‘সিলেটের ব্যস্ত জীবন, ক্লাস, পরীক্ষা আর টিউশনির চাপে সারাবছর ঠিকমতো বাড়ি যাওয়া হয় না। কিন্তু ঈদের এই সময়টায় মা-বাবার ফোন আর ওই ফ্রিজে জমিয়ে রাখা ভালোবাসার টান এড়ানো যায় না। মনে হয় যেন এখনই বাড়ি চলে যাই।’

ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে দিন গোনার এই চিরন্তন দৃশ্য প্রতিটি বাঙালি পরিবারের। এমসি কলেজ আর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে সুবিদবাজারের রুহী আর হামিমের এই ফেরার গল্প আসলে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনের কথা। মা-বাবার এই আকুতি আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই পূর্ণতা পাবে আবহমান বাংলার ঈদের আনন্দ ফিরে আসবে প্রতিটি ঘরে হাসির শব্দ আর হৈ-হুল্লোড়।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, এম সি কলেজ সিলেট

কেএসকে