Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ভারতের পরেই চীন সফর, ভারসাম্য কূটনীতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশলী যাত্রা

ভারত সফরের মাত্র এক মাসের মাথায় চীন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার প্রথম বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। একই...
Homeপশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল ঘিরে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির গেরুয়া ঢেউয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের ক্ষমতার কাঠামো। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ এ রাজ্যে বিজেপির উত্থান ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এই পরিবর্তন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং কেন্দ্রীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতার কারণে সম্পর্ক অনেকটাই স্থিতিশীল থাকবে বলে তাদের অভিমত।

কথা হয় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো কারণ তো দেখি না। সম্পর্কটা হচ্ছে পারস্পরিক। এতে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ যে বঙ্গরই হোক না কেন; যদি সম্পর্ক এক কেন্দ্রিক হয় যেটা খবরদারি সেটা না হলে সম্পর্ক অবনতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সোমবার (৪ মে) রাতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হলেও সেখানে বিজেপির ক্ষমতায় আসছে অনেকটা নিশ্চিত। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো কারণ তো দেখি না। সম্পর্কটা হচ্ছে পারস্পরিক। এতে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ যে বঙ্গরই হোক না কেন; যদি সম্পর্ক এক কেন্দ্রিক হয় যেটা খবরদারি সেটা না হলে সম্পর্ক অবনতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।— বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

তিনি বলেন, ভারতে এখন বিজেপি ক্ষমতায় আছে। পশ্চিমবঙ্গেও যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তাহলে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন ভালোর দিকেই যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। ভবিষ্যৎ ভালো-মন্দ স্পষ্ট করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হচ্ছে একটি আঞ্চলিক নির্বাচন, রাজ্যসভা নির্বাচন। রাজ্যসভা নির্বাচনে একটি রাজ্যে কারা জিতলো আর কারা হারলো তার ওপরে একটি রাষ্ট্র আরেকটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে না। এমনিতেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো ছিল না, কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে লন্ডভন্ড মমতার ঘাসফুল 
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া উত্থান: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, না নতুন চাপ? 
পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না 

তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভ করলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যত্যয় ঘটবে। তবে আমি মনে করি যে বাংলাদেশের জন্য একটা ভালো দিক আছে, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার চুক্তি নিয়ে যে অমীমাংসা ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তি নিয়ে সায় দিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে বিজেপি জয়লাভ করলে বাংলাদেশের মানুষের যে দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা তিস্তা চুক্তি সেটার আর কোনো বাধা থাকার কারণ নেই।

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের রাজ্য সরকারের আলাদা কোনো বোঝাপড়া থাকার কথা নয়। একটি দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য যদি ভালো থাকে— সে দেশের জনগণ ভালো থাকে। তবে পশ্চিমবঙ্গে যদি সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম হয়, তাদের সম্পদের ওপর জুলুম হয়— তাহলে সেটা আমাদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরো জাগো নিউজকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য জয় বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না। কারণ, তারা কেন্দ্রীয় সরকারে আছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে।

এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের রাজ্য সরকারের আলাদা কোনো বোঝাপড়া থাকার কথা নয়। একটি দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য যদি ভালো থাকে— সে দেশের জনগণ ভালো থাকে। তবে পশ্চিমবঙ্গে যদি সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম হয়, তাদের সম্পদের ওপর জুলুম হয়— তাহলে সেটা আমাদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। — বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সরকারের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান করতে পারেনি বলে অভিযোগ করে আসছে। তাদের সেই বাধা দূর হয়েছে, এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই সরকার।

কথা হয় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বিগত ৫ দশক ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দল কখনোই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল না। এই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন কেন্দ্র ও রাজ্যে আলাদা শাসন থাকায় পশ্চিমবঙ্গের জনগণ অন্য রাজ্যের তুলনায় শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছিল। তরুণ প্রজন্ম দেখতে পেয়েছে কীভাবে সরকারি দল দেশের অন্যান্য রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। মূলত দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসানের পর মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিতে আশানুরূপ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণেই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে এই অঞ্চলের মানুষ।

তবে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশ্লেষক।

কেএইচ/কেএসআর