Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বানিয়ে যেভাবে বিখ্যাত ব্রাজিলের এক ফুটবলপ্রেমী

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা এবং জীবনের অংশ। আর সেই আবেগকেই পেশায় পরিণত করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ধাতু শ্রমিক জার্বাস...
Homeবাজেটকে কর্মমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে

বাজেটকে কর্মমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি আনা এবং অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের বাজার-উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল বা ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

দেশের বৃহত্তম অনলাইন চাকরি পোর্টাল বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আগামী অর্থবছরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি

বাজেটকে কর্মমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবেবিডিজবস ডটকমের সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর, ছবি: সংগৃহীত

জাগো নিউজ: দেশের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? বাজেটকে যদি কর্মসংস্থানমুখী করতে হয়, তাহলে কী করা উচিত বলে মনে করেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমাদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা বর্তমানে খুব একটা ভালো না। মূল সমস্যা হচ্ছে, সারা দেশের গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে পড়ছে। তারা ঢাকায় এসে কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ হকারি করছে—কিন্তু এটা কোনোভাবেই টেকসই কর্মসংস্থান নয়।

বাজেটকে কর্মসংস্থানমুখী করতে হলে প্রথমেই গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে অ্যাগ্রো প্রসেসিং, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রামে যদি শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়, তাহলে মানুষ জীবিকার জন্য ঢাকায় ছুটে আসবে না।

জাগো নিউজ: শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান। যারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে পাস করছে, তাদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত চাকরি তৈরি হচ্ছে না।

এই অবস্থায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অন্যান্য দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য বিদেশে যেতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বাজেটে এ ধরনের একটি বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত, যাতে শিক্ষিত তরুণরা বিদেশে কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ নিতে পারে।

আরও পড়ুন
ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে অতি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি
বাস্তবসম্মত বাজেট না হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে: দেবপ্রিয়
তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্ব
কৃষি খাতে বাজেটের ৯.৫ শতাংশ বরাদ্দ চান অর্থনীতিবিদরা

জাগো নিউজ: দেশের শিল্পখাত ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি বা উৎপাদনমুখী খাতে এখন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হচ্ছে না। এই খাতকে গতি দিতে হবে।

বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামালের ওপর যে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স বা অগ্রিম আয়কর রয়েছে, সেটি তুলে দেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কর দিতে হয়। শিল্পের কাঁচামাল ও র মেটেরিয়ালের ক্ষেত্রে এই কর শূন্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।

একইভাবে শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ের ভ্যাটও কমানো বা প্রত্যাহার করা দরকার। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে।

বাজেটকে কর্মমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবেবিডিজবস ডটকমের সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর, ছবি: সংগৃহীত

জাগো নিউজ: দক্ষ জনশক্তি তৈরি বা স্কিল ডেভেলপমেন্টে বাজেটে কী ধরনের সহায়তা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য গত ১৫-২০ বছর ধরেই বাজেটে প্রচুর টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যা টাকার অভাব নয়, বাস্তবায়নের দুর্বলতা।

আমাদের স্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা তৈরির সক্ষমতা নেই। তাই আমি মনে করি, সরকার সরাসরি প্রশিক্ষণে টাকা খরচ না করে তরুণদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে পারে।

ধরুন, কোনো তরুণ জাপান বা অন্য কোনো দেশে তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের প্রশিক্ষণ নিতে চায়। তার যদি চার-পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকার তাকে ঋণ দিতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে সে বিদেশে চাকরি করে সেই টাকা ফেরত দিতে পারবে।

এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন ঋণ বা স্কিল লোন ব্যবস্থা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিএনপির ঘোষিত নীতিতেও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ঋণ সহায়তার বিষয়টি রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেটির কার্যকর বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন
ভ্যাটের আওতায় আসছে লক্ষাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
বাড়ছে উৎসে কর, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ
ফিরে আসতে পারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ‘নতুনত্ব’ চান ব্যবসায়ীরা

জাগো নিউজ: বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে করহার ও করব্যবস্থা কী হওয়া উচিত?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে শুধু করহার কমানো নয়, বরং একটি প্রতিযোগিতামূলক, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ করব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। করপোরেট করহার ধীরে ধীরে আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিয়ে আনা উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। করহার ও বিধিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে নিরুৎসাহিত করে।

সরকারকে ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে কর পরিপালন সহজ করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমাতে হবে এবং দ্রুত ভ্যাট রিফান্ড ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করতে হবে। কর-প্রণোদনা বিস্তৃতভাবে না দিয়ে প্রযুক্তি, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মতো উচ্চমূল্য খাতে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়া উচিত। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমান আচরণ, স্বেচ্ছাচারী কর নির্ধারণ থেকে সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা চান। একটি স্থিতিশীল করব্যবস্থা, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ব্যবসা সহজীকরণের সঙ্গে মিলিয়ে করছাড়ের চেয়ে বেশি কার্যকরভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারে।

আইএইচও/এমএমএআর