Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

মৌলভীবাজারে অটোরিকশা-মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও মাইক্রোবাসচালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।...
Homeবিশ্ব নেতারাই আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

বিশ্ব নেতারাই আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

ইসলামি শিক্ষা চরমপন্থাকে উসকে দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন নিখিলবিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান মির্যা মাসরূর আহমদ।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভূ-রাজনৈতিক দ্বৈতনীতি, ব্যর্থ নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার বেপরোয়া অন্বেষণের কারণেই বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

গত শনিবার (১৬ মে) যুক্তরাজ্যের টিলফোর্ডে অবস্থিত ইসলামাবাদে এক জাতীয় শান্তি সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।

হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন, বিশ্বের সংকটগুলোর জন্য বারবার ইসলামকে দায়ী করার প্রচেষ্টায় মুসলমানরা গভীরভাবে মর্মাহত। অথচ কিছু কিছু সরকার এবং পরাশক্তি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।

তিনি বলেন, (ইসলামের বিরুদ্ধে) এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মকে অযথা বলির পাঁঠা বানানোর পরিবর্তে, বিশ্বের জন্য এ মুহূর্তে একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আর তা হলো সম্মিলিতভাবে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা।

টিলফোর্ডের ইসলামাবাদে অবস্থিত আহমদিয়া জামাতের সদর দপ্তরে সমবেত ৬০০ জন অংশগ্রহণকারীকে সরাসরি সম্বোধন করে হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন, ধর্ম নয়, বরং বর্তমানে বিশ্বনেতারাই তাদের হীন স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে মানবতাকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ধনী ও ক্ষমতাশালীদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং অন্যদের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষাই এই বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। এসময় তিনি সেসব বিশ্বনেতার দ্বৈতনীতিরও সমালোচনা করেন— যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আরও পড়ুন
বেঁচে থাকার জন্য সন্তান বিক্রি, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আফগানরা? 
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বন্দুক হামলা নিয়ে যা জানা গেলো 

মির্যা মাসরূর আহমদ আরও বলেন, শান্তি অর্জনের জন্য ত্যাগের মানসিকতাও থাকা প্রয়োজন। একটি জাতি নিজেরা কোনো ছাড় দিতে অস্বীকার করবে আর অন্যদের কাছ থেকে সব ধরনের ছাড় আশা করবে, এটা হতে পারে না। তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নীতির চেয়ে কৌশলগত জোটকে অগ্রাধিকার দেয়। তাদের মিত্রদের অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখে।

এসময় তিনি তার ভাষণে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা ও বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, তাদের কেউই ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য ইসলামকে দায়ী করেননি। বরং তারা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, লাগামহীন সামরিক আগ্রাসন এবং নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ অন্যত্র সরানোর জন্য এমন সরকারগুলোকে দায়ী করেছেন।

এ মুসলিম নেতা তার ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে সামরিক হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা হিসেবে নারী অধিকারের বিষয়টিকে ছুঁতো হিসেবে ব্যবহার করাকেও তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

মির্যা মাসরূর আহমদ বারবার জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের শিক্ষা নিরঙ্কুশ ন্যায়বিচারের দাবি করে- এমনকি শত্রুদের প্রতিও। প্রকৃত শান্তি কেবল ন্যায্যতা, সংযম ও মীমাংসার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। সংঘাতের কারণ হওয়া তো দূরের কথা, ইসলামের শিক্ষা শান্তির দিকে এক স্থায়ী পথের দিশা দেয়।

বিশ্ব এক ঐতিহাসিক সংকটময় মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ‌‘এক অগ্নিদগ্ধ বিশ্ব’ উত্তরাধিকার সূত্রে না পায়, সেজন্য মানবজাতিকে এই খাদের কিনারা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় শান্তি সম্মেলনটি আহমদিয়া মুসলিম জামাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরেণ্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

কেএসআর/