মশা তাড়ানোর জনপ্রিয় ওষুধ ডিইইটি আগের মতো কার্যকর থাকছে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, কিছু মশা এই ওষুধের গন্ধের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে। ফলে মশা প্রতিরোধে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব ট্যুরসের গবেষক ক্লদিও লাজ্জারি এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মশা ডিইইটি ওষুধের গন্ধকে উপেক্ষা করতে পারে।
যেভাবে চালানো হয় গবেষণা
গবেষণায় ক্ষুধার্ত মশাকে ভেড়ার গরম রক্তের সঙ্গে দুটি ভিন্ন পরিবেশে রাখা হয়। একটিতে ছিল সাধারণ বাতাস, অন্যটিতে ছিল ডিইইটি মাখানো কাগজের গন্ধযুক্ত বাতাস। পরে আরেক দফা পরীক্ষায় রক্তের পরিবর্তে চিনির পানি ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন>>
কেন আপনাকেই মশা বেশি কামড়ায়?
অন্ধকারেও মশা কীভাবে মানুষ খুঁজে বের করে?
ঘর থেকে মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়
এরপর গবেষকেরা নিজেদের হাত মশার সামনে ধরেন। একটি হাতে ডিইইটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, অন্য হাত ছিল খালি। দেখা যায়, যেসব মশা আগে ডিইইটির গন্ধের সঙ্গে খাবারের অভিজ্ঞতা পেয়েছিল, তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ডিইইটি লাগানো হাতেই বসে কামড় দেয়।
অন্যদিকে সাধারণ বাতাসে প্রশিক্ষিত মশাগুলো ডিইইটি লাগানো হাত পুরোপুরি এড়িয়ে চলে।
বাস্তব জীবনে প্রভাব
গবেষকদের মতে, ল্যাবরেটরির এই আচরণ বাস্তব জীবনেও ঘটছে। সাধারণত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিটের কার্যকারিতা কমে আসে। বিশেষ করে মানুষের ঘাম বা কম পরিমাণে ওষুধ ব্যবহারের কারণে এর গন্ধ হালকা হয়ে যায়।
যখন কোনো ক্ষুধার্ত মশা হালকা গন্ধের মধ্যেও মানুষকে কামড়াতে সফল হয়, তখন তার মস্তিষ্কে ডিটের গন্ধ এবং খাবারের (রক্তের) মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। এর ফলে মশাটি পরবর্তীতে ডিটের গন্ধ পেলেও আর দূরে পালায় না, বরং রক্তের খোঁজে তেড়ে আসে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/

