সাইফ তমাল, সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরে ‘মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর’ এর উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে মহান মে দিবস।সোমবার (৩১ মে) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশটির ম্যাকপারসন রোডের গ্রান্টট্রাল মলের ‘দ্য প্রডাকশন স্টুডিও’তে অনুষ্ঠিত হয়।
মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর (এমডব্লিউএস) এর পক্ষ থেকে মে দিবস উদযাপনে কালচার সো এর মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের প্রতিভা তুলে ধরা হয়। এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘আওয়ার মিলস ম্যাটার’। মূলত অভিবাসী কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও মনোবলকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর’ প্রতিষ্ঠাতা রিপন চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। দর্শকদের কানায় কানায় উপস্থিতিতে অভিবাসী কালচার সো এর গান পরিবেশন করে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশি ফোক ব্যান্ড দলের সদস্যরা।

নৃত্য পরিবেশন করে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত মাইগ্রান্ট ড্যান্সার সিঙ্গাপুর, সিক্সিব্লাক্স, ডায়নামিক ক্রু, এসএমভির ডান্স গ্রুপ পিলিপাইনের গ্রাম্য নৃত্য, পিসআইএস ডান্স গ্রুপ ইন্দানেশিয়ান ফোক গানের সাথে নৃর্ত্য পরিবেশন করেন।
এছাড়া একক নৃত্য পরিবেশন করে নেপালীয় ভারতীয় নৃত্যশিল্পী নিতিকা রাই। ভারতীয় নৃত্যশিল্পী সানজানা মুকিয়া। ইন্দোনেশিয়ার নৃত্যশিল্পী লিলিস ডারমায়াতি। তামিল নৃত্যশিল্পী বালা। সিঙ্গাপুরে প্রবাসী কবি বেলাল হাসানের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পী হায়দার আলি।
অনুষ্ঠানে ‘এ ইমাজিনারী ডায়ালগ’ শিরোনামে পর্বে প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিচিত মুখ আল- আমিন এবং কাইল আহমেদ।

অভিবাসী কর্মীদের জীবন সম্পর্কে রিপন চৌধুরীর বক্তব্য ছিল তথ্যবহুল। তার বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন একজন অভিবাসী কর্মী ও একজন সিঙ্গাপুরিয়ানের জীবনযাপনের পার্থক্য।
‘মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর’ এর পক্ষ হতে ‘কেটারিং ফুড ক্যাম্পেইন’ এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয় এবং প্রবাসী কর্মীদের খাবারের সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনায় অংশ নেন কোকিলা আনামালাই এবং আশিষ কাবরা।
জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন এনজিও’র স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তা, মাইগ্রান্ট এবং লোকাল কমিউনিটির সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের দর্শকদের কানায় কানায় উপস্থিতি ছিল।

আনন্দঘন অনুষ্ঠানটি অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটা ছিল সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মিলনমেলা। সিঙ্গাপুরে লরি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা অভিবাসী কর্মীদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানটির শুরু থেকে শেষপর্যন্ত মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুরের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশংসনীয়। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মালয়েশিয়ান সিঙ্গাপুরিয়ান রাওডা।
সিঙ্গাপুরে ‘মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর’ একমাত্র কমিউনিটি যা অভিবাসী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি এবং অধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে।
এমআরএম

