Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও...
Homeমা ও স্ত্রীর দ্বন্দ্বে কার পক্ষ নেবেন? যা বললেন মুফতি মেনক

মা ও স্ত্রীর দ্বন্দ্বে কার পক্ষ নেবেন? যা বললেন মুফতি মেনক

ডক্টর মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক, যিনি মুফতি মেনক নামে বেশি পরিচিত, হলেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে।

মুফতি মেনক এক বক্তব্যে মা ও স্ত্রীর দ্বন্দ্বে করণীয় সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ নিজের ভেরিভায়েড ইউটিউব চ্যানেলে `Wife or Mother – Who Is First?’ শিরোনামে ওই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি।

মুফতি মেনক বলেন,

“ইসলামে মা নাকি স্ত্রী কার গুরুত্ব বেশি, মাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে নাকি স্ত্রীকে—এ রকম প্রশ্ন অনেকেই করেন। অনেকে উত্তর দেন, মায়ের গুরুত্বই নিশ্চিতভাবে বেশি, কারণ জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে যেমন নবীজি (সা.) বলেছেন। মা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন, আপনার দেখাশোনা করেছেন এবং আপনার স্ত্রী আপনার জীবনে অনেক পরে এসেছেন। এই উত্তরটি সঠিক নয়। আমি বলি, উভয়ের গুরুত্বই বেশি।

আপনি হয়তো বলবেন, যদি কোনো বিবাদ হয় তবে কী হবে? আমি ব্যাখ্যা করি, আপনার মায়ের জন্য আপনার যে ভালোবাসা, তা আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালোবাসা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মায়েরা যারা আমাকে শুনছেন, আপনাদের ছেলে তার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসবে, কিন্তু সেই ভালোবাসা সে আপনার প্রতি তার ভালোবাসা থেকে কেড়ে নিচ্ছে না। তিনি হয়তো আপনার সাথে আগের মতো বেশি সময় কাটাতে পারবেন না, কিন্তু সে নিজের জীবনে এগিয়ে যাচ্ছে এটা ভেবে আনন্দিত হোন।

যখন কোনো বিবাদ হয়, তখন দেখতে হবে কে ন্যায় করছে, কে অন্যায় করছে। আপনার মা হোক বা আপনার স্ত্রী, যে সঠিক, আমরা তার পক্ষ নেব। তবে মনে রাখবেন, আপনার মা যদি অন্যায় করেন, তাহলে বিষয়টি মোকাবেলা করার সময় মায়ের সম্মানের কথা, আপনার জন্য তার অপরিসীম ত্যাগের কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে। মায়ের সম্মান বজায় রেখেই বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

কোরআনের আয়াত শুনুন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো।’ আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এমনকি যদি তা তোমাদের নিজেদের, তোমাদের বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও ন্যায়ের পক্ষে থাকো।’ এর অর্থ হলো, যদি এটি আমার মা বা বাবার বিরুদ্ধেও হয়, আমি ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াব, আমার মা বা বাবার পক্ষে নয়। যদি এটি নিজের বিরুদ্ধেও হয়, আমি ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকব।

অনেক মানুষ বাবা-মাকে কষ্ট না দিতে চাওয়ার অজুহাতে বাবা-মাকে জীবনসঙ্গীর ওপর অত্যাচার করতে দেয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইবরাহিম (আ.) ও অন্যান্য নবীদের দেখুন, বাবা-মা ভুল অবস্থানে থাকলে তারা তাদের বাবা-মায়ের বিরোধিতা করেছেন, তাদের সংশোধন করার চেষ্টা করেছেন। তারা এটা বলেননি যে, ‘আপনারা আমার বাবা-মা, তাই আপনাদের অবস্থান ভুল হলেও সঠিক, আমি আপনাদের সংশোধন করতে পারব না।’

আপনি তাদের সংশোধনের চেষ্টা করবেন, কিন্তু সদয় ও শ্রদ্ধাশীল থেকেই করবেন। লক্ষ করুন, আল্লাহ যখন বাবা-মায়ের কথা বলেছেন, তিনি ‘আনুগত্য’ (Obedience) শব্দটির পরিবর্তে ‘দয়া’ (Kindness) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বাবা-মায়ের প্রতি দয়ালু হও, কিন্তু অন্যায়ের ক্ষেত্র তাদের আনুগত্য করা যাবে না। নিঃশর্ত আনুগত্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য।

সুতরাং আপনার মা যদি ভুল করেন, তবে আপনাকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। সুন্দরভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার কারণে বাবা-মা যদি আপনার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করেন, তাহলে তার সুরক্ষার জন্য আপনাকে আলাদা থাকার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। ইসলাম আপনাকে আপনার স্ত্রীর জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়।

আমার প্রিয় মা ও বাবারা, আপনারা আপনাদের সন্তানদের জীবনসঙ্গীদের প্রতি দয়ালু হোন, সহজ হোন। আর যাদের শাশুড়ি আছেন, তাদের প্রতি দয়া ও সম্মান প্রদর্শন করুন। কথা বলুন, যোগাযোগ করুন।

সারকথা হলো, মা হোক বা স্ত্রী, সমস্যা বা ঝামেলার ক্ষেত্রে ‘ন্যায়বিচার’ই আগে আসে, আর দয়া ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে দুজনই আগে। একজন উত্তম মুসলমান হিসেবে সব সময় সব ক্ষেত্রে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই আপনার কর্তব্য। বাবা-মা ভুল করতে পারেন, তারা মানুষ। তাদের জুলুম সমর্থন না করার অর্থ তাদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া নয়।”

ওএফএফ