ফ্যাশন দুনিয়ায় অদ্ভুত পোশাক এখন নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে মেট গালার মতো আন্তর্জাতিক রেড কার্পেট ইভেন্টে প্রতি বছরই এমন সব লুক দেখা যায়, যা সাধারণ ফ্যাশনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। ২০২৬ সালের মেট গালাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। `কস্টিউম আর্ট’ এবং ফ্যাশন ইজ আর্ট থিমকে কেন্দ্র করে তারকারা এমন সব সাহসী ও অদ্ভুত পোশাক উপস্থাপন করেছেন, যা একদিকে যেমন শিল্পের নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। এমন কিছু পোশাক দেখলে আপনারও মনে হবে এটা কি আসলেই পরার যোগ্য?
লিসার ফ্যাশনের অধ্যায়

এই আসরের অন্যতম আলোচিত নাম ছিল কে-পপের ব্ল্যাক পিংক তারকা লিসা। রবার্ট উইনের ডিজাইন করা অ্যাভান্ট-গার্ড কাস্টম পোশাকে তিনি যেন বাস্তবের বাইরে এক পরাবাস্তব চরিত্রে পরিণত হন। তার পোশাকে থাকা থ্রিডি-প্রিন্টেড হাত, যা স্বচ্ছ ওড়নাকে ধরে রেখেছিল, পুরো লুককে একেবারে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
তবে এই নান্দনিকতা অনেক দর্শকের কাছে ছিল বিভ্রান্তিকর। কেউ একে বিয়ের পোশাকের সঙ্গে তুলনা করেন, আবার কেউ মজা করে বলেন এটি যেন ‘মশারির মতো কিছু একটা’। ফ্যাশনের এই ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, লিসার লুক নিঃসন্দেহে রাতের অন্যতম ভাইরাল মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
কেটি পেরি যেন মহাকাশ থেকে রেড কার্পেটে

কেটি পেরি তার সাজে মহাকাশ ও ফ্যাশনের মিশ্রণ ঘটান। স্টেলা ম্যাককার্টনির সাদা স্ট্র্যাপলেস গাউন, লম্বা ট্রেইন এবং কনুই পর্যন্ত দস্তানা তাকে রাজকীয় চেহারা দেয়। কিন্তু সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল তার নভোচারী-অনুপ্রাণিত হেলমেট মাস্ক।
তার এই লুক অনেকের কাছে ছিল শিল্পের সাহসী উপস্থাপন, আবার অনেকেই একে অতিরিক্ত নাটকীয় বলে মনে করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ওঠে-এটা কি সত্যিই ফ্যাশন, নাকি শুধুই শো?
জ্যানেল মোনায়ের ইকোসিস্টেমের পোশাক

জ্যানেল মোনায়ে যেন মেট গালায় এক জীবন্ত ইকোসিস্টেম হয়ে উপস্থিত হন। তার পোশাকে ছিল সবুজ শ্যাওলা, ত্রিমাত্রিক প্রজাপতি এবং তারের জট, যা তাকে প্রায় নড়াচড়া করতে দিচ্ছিল না।
ক্রিশ্চিয়ান সিরিয়ানোর ডিজাইন করা এই লুককে কেউ কেউ ‘ হাই-টেক আর্ট ইনস্টলেশন’ বললেও অনেকে একে অদ্ভুত সবজির কোলাজের সঙ্গে তুলনা করেন। কেউ মজা করে বলেন, ‘এটা যেন একটা কম্পিউটার নিজেই তাকে গিলে ফেলেছে।’
গোয়েনডোলিন ক্রিস্টির শিল্প নাকি ভীতি

গোয়েনডোলিন ক্রিস্টি ফ্যাশনকে সরাসরি শিল্প হিসেবে উপস্থাপন করেন। লাল গাউন, বিশাল পালকের হেডপিস এবং আয়না-মুখোশ তাকে এক রহস্যময় প্রতিচ্ছবি দেয়।
এই লুককে কেউ ‘ভুতুড়ে পুতুলঘর’ বলে আখ্যা দেন, আবার কেউ বলেন এটি ফ্যাশনের সবচেয়ে সাহসী রূপ। তবে নিশ্চিতভাবে এটি ছিল রাতের সবচেয়ে আলোচিত ও ভিন্নধর্মী উপস্থিতিগুলোর একটি।
কার্ডি বি, সারাহ পলসন ও অলিভিয়া ওয়াইল্ড

কার্ডি বি পরেন স্বচ্ছ লেস বডিস্যুট, যা অনেকের কাছে ছিল সাহসী কিন্তু বিতর্কিত। সারাহ পলসনের বিশাল ধূসর গাউন ও চোখের উপর ডলারের নোট ব্যবহারও নজর কাড়ে।

অলিভিয়া ওয়াইল্ড থম ব্রাউনের ডিজাইনে চামড়ার খাঁচার মতো কাঠামো ও টিউল ব্যবহার করে একটি এক্সপেরিমেন্টাল লুক তৈরি করেন। তবে অনেকেই এটিকে অদ্ভুত ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেন।
স্যাম স্মিথের নাটকীয়তার সীমা ছাড়িয়ে

স্যাম স্মিথ কালো মারমেইড গাউন ও পালকের হেডপিসে এক গাঢ় নাটকীয় উপস্থিতি তৈরি করেন। তার এই সাজ কেউ কেউ ‘নাট্যশিল্পের উদাহরণ’ বললেও অনেকে একে ‘ভৌতিক লুক’ হিসেবে আখ্যা দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট।
হাইডি ক্লুম

রেড কার্পেটে হাইডি ক্লুমের উপস্থিতি ছিল যেমন নাটকীয়, তেমনই বিভ্রান্তিকর। ঢিলেঢালা, মূর্তির মতো সাদা গাউন এবং ঘোমটা দেওয়া মুখে তিনি হাজির হন এমন এক লুকে, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
তার এই সাজ ছিল পুরোপুরি কস্টিউম আর্ট থিমের ব্যাখ্যা, যেখানে ফ্যাশনকে শিল্পের রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। গাউনের গঠন ও সাদা রঙ তাকে এক ধরনের ভাস্কর্যের মতো রূপ দেয়, যেন তিনি কোনো জীবন্ত শিল্পকর্ম।
তবে এই লুক সবার কাছে একরকম গ্রহণযোগ্য হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই একে অতিরিক্ত অদ্ভুত ও বোঝা কঠিন বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ বলেন এটি ফ্যাশনের চেয়ে বেশি একটি আর্ট ইনস্টলেশনের মতো, আবার কেউ এটিকে রাতের ‘সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর লুক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

সারাহ পলসন
মেট গালা ২০২৬ আবারও প্রমাণ করেছে, ফ্যাশন এখন শুধু পোশাক নয়, এটি একটি শিল্প, একটি বক্তব্য এবং অনেক সময় একটি বিতর্ক। অদ্ভুত পোশাকগুলো কেউ ভালোবাসছেন আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু সব মিলিয়ে বলা যায়, এই অদ্ভুত ফ্যাশনের জগৎই এখন আধুনিক স্টাইলের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
সূত্র: বোর পান্ডা, বিজনেস ইনসাইডার, বিলবোর্ড
এসএকেওয়াই

