Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। মঙ্গলবার...
Homeস্বস্তির রোদে প্রাণ ফিরেছে হাওরে, খলায় কৃষকদের ব্যস্ততা

স্বস্তির রোদে প্রাণ ফিরেছে হাওরে, খলায় কৃষকদের ব্যস্ততা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অবশেষে দেখা মিলেছে স্বস্তির রোদের। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় হাওরজুড়ে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ডুবে যাওয়া ক্ষেত ও খলায় স্তূপ করে রাখা ধান শুকাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

ইটনা-অলওয়েদার সড়কসহ হাওরের উঁচু জমির খলাগুলোতে আবারও ফিরেছে চিরচেনা কর্মব্যস্ততা। সড়কের দুই পাশে ধান শুকানো, কোথাও ধান মাড়াই, আবার কোথাও বাতাসে ধান উড়িয়ে ময়লা পরিষ্কারের দৃশ্য চোখে পড়ছে। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও ধান শুকানো ও গুছানোর কাজে অংশ নিচ্ছে। ফলে খলাগুলোতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কৃষকদের।

তবে রোদের দেখা মিললেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা উপজেলার হাওরাঞ্চল। অনেক নিচু জমি এখনও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

স্বস্তির রোদে প্রাণ ফিরেছে হাওরে, খলায় কৃষকদের ব্যস্ততা

মিঠামইন জিরো পয়েন্ট অলওয়েদার সড়কে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক রহিম মিয়া বলেন, সকাল থেকে রোদ থাকায় সবাই খলা ও সড়কে রাখা ধান শুকাতে ব্যস্ত। কিছু জায়গায় এখনো পানির মধ্যে ধান কাটতে হচ্ছে। কয়েকদিন রোদ থাকলে কিছুটা ফসল রক্ষা করা যাবে।

জয়সিদ্ধি খলার কৃষক খয়ের খা বলেন, রোদ না থাকলে সব শেষ হয়ে যেত। এখন যা আছে, সেটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। অনেকের ধান এরই মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের চাহিদা বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে মজুরিও।

স্বস্তির রোদে প্রাণ ফিরেছে হাওরে, খলায় কৃষকদের ব্যস্ততা

ধান কাটতে আসা শ্রমিক সবুর আলী বলেন, বুকসমান পানিতে নেমে কাজ করতে হচ্ছে। ঠান্ডা পানি আর জোঁকের কষ্টের মধ্যেও ধান কাটছি। তাই মজুরি একটু বেশি নিচ্ছি।

হাওরে রোদ ফিরলেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখনো কাটেনি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অন্তত খলার ধান উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা স্থানীয় কৃষকদের।

নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বস্তির রোদে প্রাণ ফিরেছে হাওরে, খলায় কৃষকদের ব্যস্ততা

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ৪৯ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এসকে রাসেল/এফএ/এএসএম