Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

গাইবান্ধায়‎ বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যু ‎‎

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ‎বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ‎ নিহতরা-...
Homeমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না, বিএসইসির নতুন বিধিমালা

মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না, বিএসইসির নতুন বিধিমালা

এখন থেকে কোনো মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না। মেয়াদপূর্তির পর অথবা নির্ধারিত বিশেষ পরিস্থিতিতে ফান্ডটি ওপেন-এন্ডেড রূপান্তরিত হবে নাকি অবসায়নের (লিকুইডেশন) মাধ্যমে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইউনিটধারীরাই। এ জন্য ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান এবং ভোটগ্রহণের বিস্তারিত প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিধিমালাটি কার্যকর হয়েছে বলে বুধবার (৩ জুন) জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নতুন বিধিমালা কার্যকরের পাশাপাশি ২০১৫ সালের পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্লোজড-অ্যান্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ডেড ফান্ডে রূপান্তরকে ফান্ডের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এখন থেকে কোনো ফান্ডের অ্যাসেট ম্যানেজার স্বেচ্ছায় রূপান্তরের প্রস্তাব দিলে তা সংশ্লিষ্ট অ্যাসেট ম্যানেজার ও ট্রাস্টির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাস্টিকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রস্তাবটি ইউনিটধারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে। এ ধরনের প্রস্তাব ফান্ডের মেয়াদপূর্তির কমপক্ষে ১৫০ দিন আগে উত্থাপন করতে হবে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের বিধিমালার ৬২(২) ধারায় বর্ণিত বিশেষ পরিস্থিতিতে ট্রাস্টি বাধ্যতামূলকভাবে ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করবে। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাজারদর ও নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) মধ্যে দীর্ঘসময় ধরে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান বিদ্যমান থাকলে এ বিধান কার্যকর হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, বিশেষ সাধারণ সভার জন্য রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে এবং সভার নোটিশ অন্তত ২১ দিন আগে প্রকাশ করতে হবে। রেকর্ড ডেটে যাদের নামে ইউনিট থাকবে, তারাই সভায় ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। সভায় উত্থাপিত রূপান্তর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মোট ইউনিটের অন্তত ৭৫ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

তবে বিধিমালার ৬২(২) ধারার আওতাধীন কোনো ফান্ডে এ সমর্থন না মিললে ইউনিটধারীদের সিদ্ধান্ত অবসায়নের পক্ষে বলে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টিকে বিধিমালা অনুযায়ী ফান্ডের লিকুইডেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে, এ ধারার বাইরে থাকা কোনো ফান্ডে রূপান্তর প্রস্তাব ব্যর্থ হলে ইউনিটের লেনদেন পুনরায় চালু হবে এবং ফান্ডের সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

কেন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলো?

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড বছরের পর বছর তাদের নিট সম্পদমূল্য (এনএভি)-এর তুলনায় কম দামে লেনদেন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম বাজারমূল্য পেয়েছেন।

ফলে ইউনিটধারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং মেয়াদপূর্তির পর ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অতীতে কিছু ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো হলেও সে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন বিধিমালায় সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত নেবেন ইউনিটধারীরাই

নতুন আদেশ অনুযায়ী, ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউনিটধারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ট্রাস্টিকে বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করতে হবে। সেখানে ইউনিটধারীরা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন, ফান্ডটি ওপেন-এন্ডেড রূপান্তরিত হবে নাকি লিকুইডেশনের পথে যাবে। রূপান্তরের পক্ষে মোট ইউনিটের অন্তত ৭৫ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এ সমর্থন না মিললে বিধিমালার আওতাভুক্ত বিশেষ ক্ষেত্রে ফান্ড গুটিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ট্রাস্টির হাতে যাবে নিয়ন্ত্রণ

রূপান্তর প্রক্রিয়ার সময় ফান্ডের সম্পদ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ট্রাস্টির কাছে হস্তান্তর করা হবে। কার্যকর তারিখ থেকে ট্রাস্টি ফান্ডের সম্পদ, দায়, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেবে। তবে ট্রাস্টি কোনো নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তার মূল দায়িত্ব হবে সম্পদ সংরক্ষণ, মূল্যায়ন, অডিট এবং রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

স্বাধীন মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক

রূপান্তরের আগে ফান্ডের সম্পদের স্বাধীন মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য এমন অডিটর নিয়োগ করতে হবে, যাদের সঙ্গে অ্যাসেট ম্যানেজার, ট্রাস্টি বা কাস্টডিয়ানের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক থাকবে না।

অডিটরকে দুটি পৃথক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- অডিট রিপোর্ট এবং ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট। ভ্যালুয়েশন রিপোর্টে প্রতিটি সম্পদের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, অলিকুইড সিকিউরিটিজের মূল্যায়ন এবং প্রকৃত এনএভি উল্লেখ থাকবে।

নতুন ফান্ড, নতুন প্রসপেক্টাস

ওপেন-এন্ডেড ফান্ডে রূপান্তরের পর সংশ্লিষ্ট স্কিমকে কার্যত নতুন ফান্ড হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রসপেক্টাস, ট্রাস্ট ডিড, ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট চুক্তিসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি দলিল কমিশনে জমা দিতে হবে।

তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু নিয়ন্ত্রক ছাড়ও রাখা হয়েছে। নতুন করে স্পন্সরের ন্যূনতম সাবস্ক্রিপশন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না এবং বিদ্যমান ইউনিটধারীদেরই প্রাথমিক বিনিয়োগকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

ব্যয়ে লাগাম

রূপান্তর প্রক্রিয়ার নামে অতিরিক্ত ব্যয় আরোপ করে ইউনিটধারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ঠেকাতে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মোট রূপান্তর ব্যয় ফান্ডের আকারের এক শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অ্যাসেট ম্যানেজারের রূপান্তর-সংক্রান্ত ফি সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। ট্রাস্টির ফি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।

বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ক্লোজড-অ্যান্ড ফান্ডগুলোর দীর্ঘদিনের ডিসকাউন্ট সমস্যা কমতে পারে। ওপেন-এন্ডেড ফান্ডে রূপান্তরের পর বিনিয়োগকারীরা এনএভি ভিত্তিক দামে ইউনিট ক্রয় ও রিডেম্পশনের সুযোগ পাবেন। ফলে বাজারদর ও প্রকৃত সম্পদমূল্যের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল পারফরম্যান্স করা বা দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ফান্ডগুলোর জন্য সুশৃঙ্খল লিকুইডেশনের পথও উন্মুক্ত থাকবে।

এমএএস/এমএএইচ/