Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

সবাইকে চমকে দিতে রাঁধতে পারেন কাঁঠালের বিচির ক্ষীর

ঋতুভিত্তিক ফলের মধ্যে কাঁঠাল যেমন জনপ্রিয়, তেমনি এর বিচিও পুষ্টিগুণে ভরপুর। সাধারণত ভর্তা, ভাজি বা তরকারিতে ব্যবহার করা হলেও কাঁঠালের বিচি দিয়ে তৈরি করা...
Homeমেয়েরা তেলাপোকা দেখলেই ভয় পায় কেন?

মেয়েরা তেলাপোকা দেখলেই ভয় পায় কেন?

তেলাপোকার নামটা শুনলেই অনেকের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। রান্নাঘরে হঠাৎ পানির পাশে বা আলোর নিচে এর উপস্থিতি দেখলে অনেকেই চমকে ওঠেন, কেউ কেউ আতঙ্কে চিৎকারও করেন। যদিও এই পতঙ্গটি সাপ বা বাঘের মতো সরাসরি বিপজ্জনক নয়, তবুও মানুষের মধ্যে এর প্রতি ভয় ও ঘৃণা অনেক বেশি। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই ভয় বেশি দেখা যায় বলে ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি ছোট, নিরীহ পতঙ্গকে ঘিরে এত ভয় কেন?

তেলাপোকা ভীতির কারণ

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, তেলাপোকা ভীতি বা ক্যাটসারিডাফোবিয়া বিশ্বের অন্যতম সাধারণ ফোবিয়া। এটি শুধু সাধারণ ভয় নয়, বরং একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে তেলাপোকা দেখলেই শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, এমনকি আতঙ্কে চিন্তা করার ক্ষমতাও সাময়িকভাবে কমে যাওয়া।

যদি এমন প্রতিক্রিয়া বারবার ঘটে, তাহলে এটি স্বাভাবিক ভয়ের বাইরে গিয়ে একটি ফোবিয়ার রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ভয় তৈরি হয় যেভাবে

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভয়ের শেকড় অনেক সময় শৈশবেই তৈরি হয়। শিশু যখন বড়দের কাছ থেকে শেখে, তখন তাদের আচরণও অবচেতনভাবে গ্রহণ করে। যদি বাবা-মা বা পরিবারের কেউ তেলাপোকা দেখে ভয় পায় বা আতঙ্কিত হয়, তাহলে শিশুর মনেও একই প্রতিক্রিয়া গড়ে ওঠে। এভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এই ভয় ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়ে শেখা আচরণই বেশি প্রভাব ফেলে।

ঘৃণা ও অস্বস্তির মনস্তত্ত্ব

তেলাপোকার প্রতি শুধু ভয় নয়, অনেকের মধ্যে তীব্র ঘৃণাও কাজ করে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় ‘ডিসগাস্ট রেসপন্স’। এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

তেলাপোকার শরীর চকচকে ও তেলতেলে, চলাফেরা দ্রুত ও অনিয়মিত, এবং হঠাৎ উড়ে এসে গায়ে বসার প্রবণতা অনেকের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়। এসব আচরণ মানুষের স্বাভাবিক আরামবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় মস্তিষ্ক এটিকে হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে।

যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকিও আছে

যদিও তেলাপোকা সরাসরি প্রাণঘাতী নয়, তবে এর সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত। এই পতঙ্গ সাধারণত নর্দমা, আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে। ফলে এর শরীরে বিভিন্ন জীবাণু ও অ্যালার্জেন থাকতে পারে।

তেলাপোকার শরীর থেকে নির্গত কণা বা দুর্গন্ধ অনেক সময় শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

নারীদের মধ্যে বেশি ভয় দেখা যায় কেন

এটি একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ধারণা, কোনো জৈবিক সত্য নয়। অনেক সময় ছোটবেলা থেকে শেখা আচরণ, পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতা মিলেই এই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাই এটি লিঙ্গভিত্তিক নয়, বরং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ভয় যেভাবে কাটানো সম্ভব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয় সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ধীরে ধীরে এক্সপোজার থেরাপি, মানসিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে এই ফোবিয়া নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। নিজেকে বোঝানো জরুরি যে, তেলাপোকা যতই অস্বস্তিকর হোক, এটি একটি ছোট জীব এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি বিপজ্জনক নয়।

তেলাপোকা ভীতি কোনো দুর্বলতা নয়। এটি মানুষের মনস্তত্ত্ব, অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের সম্মিলিত ফল। তাই ভয় পেলে নিজেকে দোষারোপ না করে বরং এর পেছনের কারণ বুঝতে চেষ্টা করা উচিত। সচেতনতা ও সঠিক মানসিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এই ভয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম, ইন্ডিয়া টুডে

এসএকেওয়াই