কিশোরগঞ্জ সদরে বৌভাত অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল সরাতে বলায় গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—কর্ণশাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সেলিম খান (৩০), আসাদ খান (৩৬) ও মো. মোশাররফ মিয়া (১৫)। তাদের মধ্যে আসাদ ও মোশাররফকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সেলিম খানের বাড়িতে প্রায় ৩০০ অতিথির উপস্থিতিতে বৌভাতের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির সামনে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে সেলিম খানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করাসহ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
সেলিম খানের বোন মদিনা বলেন, মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তারা আরও লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল জানান, অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পরে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুরের চিত্র দেখেছেন বলেও জানান।
ভুক্তভোগী সেলিম খান বলেন, আমি শুধু বাড়ির সামনে থেকে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলেছিলাম। এর জের ধরে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসকে রাসেল/কেএইচকে/এমএস

