বরিশালের চাখারে এখনও যেন জীবন্ত শেরে বাংলার স্মৃতি। পুরোনো বসতভিটার আঙিনা, ব্যবহৃত আসবাব, দুর্লভ আলোকচিত্র আর ইতিহাসের নীরব সাক্ষ্য বহন করা সংগ্রহশালা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন অবিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি নেতা এ কে ফজলুল হককে জানতে। ইতিহাস, রাজনীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে চাখারের শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
পৈতৃক ভিটায় ইতিহাসের সংগ্রহশালা
১৯৮২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চাখারের প্রাণকেন্দ্রে শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণকাজ শুরুর পর ১৯৮৩ সালে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেরে বাংলার নিজস্ব বসতভিটার অংশজুড়ে নির্মিত এই জাদুঘরটি বর্তমানে প্রায় ২৭ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত, যা স্থানীয়ভাবে চাখার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর নামেও পরিচিত। পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট এই জাদুঘরে রয়েছে তিনটি প্রদর্শনী কক্ষ, একটি অফিস কক্ষ, একটি লাইব্রেরি ও একটি বিশ্রামাগার। প্রদর্শনী কক্ষগুলোতে শেরে বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবনের আলোকচিত্র, চিঠিপত্র ও আসবাবপত্র সংরক্ষিত আছে।

আরও পড়ুন
১৭০ বছরের ইতিহাস ধরে রেখেছে দেশের একমাত্র চা জাদুঘর
অস্তিত্ব সংকটে এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘ
গুদামেই বন্দি হাজার বছরের অমূল্য প্রত্নবস্তু
বরিশাল জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ জাদুঘরে শেরে বাংলার স্মৃতিচিহ্ন ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর মধ্যে সুন্দরবন থেকে শিকার করা কুমিরের মমি, অষ্টভুজাকৃতির মারীচী দেবীর মূর্তি, কালো পাথরের শিবলিঙ্গ, ব্রোঞ্জের বৌদ্ধ মূর্তি এবং সুলতানি, ব্রিটিশ ও শ্রীলঙ্কান আমলের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা উল্লেখযোগ্য। জাদুঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে শেরে বাংলার বিশ্রামাগার ও ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন, পূর্ব পাশে মসজিদ ও পারিবারিক কবরস্থান এবং উত্তর প্রান্তে বসতভিটা ও তার প্রতিষ্ঠিত সরকারি ফজলুল হক কলেজ অবস্থিত।

আধুনিকায়ন ও গবেষণাকেন্দ্রের দাবি
জাদুঘরটিতে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এখানে বড়দের জন্য ১০ এবং শিশুদের জন্য পাঁচ টাকা প্রবেশমূল্য রাখা হয়, যা ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে আরও বেড়ে যায়।
‘শেরে বাংলার জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করা হলে জাদুঘরটির আকর্ষণ আরও বাড়বে। পাশাপাশি তাকে নিয়ে একটি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করাও প্রয়োজন’
জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক এ জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য আবাসন ও শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্কের ব্যবস্থা করা দরকার।’
আরেক দর্শনার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, শেরে বাংলার জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করা হলে জাদুঘরটির আকর্ষণ আরও বাড়বে। পাশাপাশি তাকে নিয়ে একটি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করাও প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
চার দশকেও অন্তরালে ওসমানী জাদুঘর
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিককে সম্পদে রূপ দিচ্ছে প্রাণ-আরএফএল
ফিরে আসতে পারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
জাদুঘরটির দায়িত্বে থাকা জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এখন প্রতিদিন ৩০০ দর্শনার্থী আসেন। তবে ছুটির দিনে এ সংখ্যা বেড়ে যায়। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা করে টিকিট রাখা হয়। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য ৫ টাকা করে টিকিট রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ জাদুঘর থেকে কিছু জিনিসপত্র বরিশাল কেন্দ্রীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে শেরে বাংলার বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী এখানে এখনো সংরক্ষিত আছে।
কেএইচকে/এএইচ/জেআইএম

