- শেষ বৈশাখে লাখো মানুষের চাপ মহাস্থানগড়ে
- মাটি খুঁড়ে বসছে দোকান, রেহাই পায়নি সংরক্ষিত এলাকাও
- দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে লোকজ মেলা
কোদাল আর শাবলের আঘাতে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে পোড়া ইটের টুকরো। যেগুলো সাধারণ ইট নয়, শতাব্দীপ্রাচীন প্রত্ননিদর্শনের অংশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারও।
শেষ বৈশাখ ঘিরে মহাস্থানগড় এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসাতে বিগত তিনদিন ধরে খোঁড়া হচ্ছে মাটি, পোঁতা হচ্ছে বাঁশের খুঁটি। এমনকি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড লাগানো সংরক্ষিত এলাকাও রেহাই পাচ্ছে না।
খোদার পাথর ভিটায় দুধ ঢালছেন এক পুণ্যার্থী। এতে পাথর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে/ছবি-জাগো নিউজ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় শেষ বৈশাখ ও উরসকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল। ভোর থেকেই ট্রাক, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল আর ভ্যানযোগে বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে থাকেন দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থী। দুপুর গড়াতেই পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
‘মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে পাল, সেন ও মুসলিম আমলের অসংখ্য ইতিহাস ছড়িয়ে আছে এই জনপদের মাটির নিচে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এখানকার প্রতিটি টিলা, পোড়া ইট কিংবা মাটির স্তরই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান। কিন্তু সেই সংবেদনশীল এলাকাতেই এখন পড়ছে শাবল ও কোদালের কোপ’
হযরত শাহ সুলতান মাহিসওয়ার বলখীর (রহ.) মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে বিশাল লোকজ মেলা। শীলাদেবীর ঘাট, মানকালীর কুণ্ড, খোদার পাথর ভিটাসহ বিভিন্ন প্রত্নস্থানে দেখা গেছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কেউ মানত করছেন, কেউ দুধ ঢালছেন, কেউবা ছবি তুলতে উঠে যাচ্ছেন প্রাচীন দেওয়ালের ওপরে।
স্থানীয় লোকজন জানান, লোকজ উৎসবের নামে প্রত্ননগরীর ওপর বাড়ছে ভয়াবহ চাপ। প্রাচীন টিলা ও প্রত্ন স্থাপনার আশপাশে অনিয়ন্ত্রিত মানুষের চলাচল, উচ্চ শব্দে মাইক, মাটি খুঁড়ে দোকান বসানো, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ভারী যানবাহনের কম্পনে ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্নসম্পদ।
মহাস্থানগড়ে লোকজ মেলায় প্রত্নসম্পদ টিলার ওপর বিছানো হয়েছে মাদুর/ছবি-জাগো নিউজ
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে পাল, সেন ও মুসলিম আমলের অসংখ্য ইতিহাস ছড়িয়ে আছে এই জনপদের মাটির নিচে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এখানকার প্রতিটি টিলা, পোড়া ইট কিংবা মাটির স্তরই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান। কিন্তু সেই সংবেদনশীল এলাকাতেই এখন পড়ছে শাবল ও কোদালের কোপ।
‘মানকালীর কুণ্ড’ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডের পাশেই বাঁশের খুঁটি পুঁতে দোকান নির্মাণ চলছে। মাটি খুঁড়তেই ওপরে উঠে আসছে পোড়া ইটের অংশ। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ছে পুরোনো কাঠামোর অংশবিশেষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে এত ভিড় হতো না। এখন লাখ লাখ মানুষ আসে। অনেকেই বোঝে না কোনটা ইতিহাস আর কোনটা সাধারণ মাটি। যেখানে জায়গা পাচ্ছে সেখানেই বসে যাচ্ছে।’
‘বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানে দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট চলাচল পথ, কম্পন নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ব্যবস্থা থাকে। অথচ মহাস্থানগড়ে এখনো সেই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। এখনই প্রত্নস্থানের সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, ভারী যানবাহন দূরে রাখা, মাটি খোঁড়া বন্ধ এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে’—সুপ্র সম্পাদক
প্রত্ননগরীর বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রাচীন দেওয়ালের ওপর উঠে ছবি তুলছেন। অনেকে সংরক্ষিত এলাকায় বসে খাচ্ছেন। চারদিকে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক বোতল, খাবারের প্যাকেট ও ময়লা।
উৎসব ঘিরে আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও চোখে পড়েছে। ‘খোদার পাথর ভিটা’ নামে পরিচিত একটি প্রত্নস্থানে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে পাথরের ওপর দুধ ঢালছেন, সিঁদুর মাখাচ্ছেন এবং মাথা ঠেকাচ্ছেন।
হযরত শাহ সুলতান মাহিসওয়ার বলখীর (রহ.) মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে বিশাল লোকজ মেলা/ছবি-জাগো নিউজ
রংপুর থেকে আসা দর্শনার্থী মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু একটা পাথরকে ঘিরে এভাবে দুধ ঢালা বা সিঁদুর মাখানো কুসংস্কারের মতো লাগছে। এতে প্রত্নসম্পদেরও ক্ষতি হতে পারে।’
ঢাকা থেকে আসা সিরাজুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুধ বা অন্যকিছু লাগালে পাথরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব কাজ নিরুৎসাহিত করা দরকার।’
তবে দর্শনার্থীদের একটি বড় অংশ বলছেন, এই আয়োজন তাদের কাছে শুধু মেলা নয়, বহু বছরের আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার অংশ।
রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা ৫৭ বছর বয়সী মার্জিয়া বেগম জানান, গত আট বছর ধরেই তিনি শেষ বৈশাখ উপলক্ষে মহাস্থানগড়ে আসছেন। এই পরিবেশটা তাকে আলাদা শান্তি দেয়। এত মানুষ আসে, তারপরও তিনি কখনো কোনো সমস্যা মনে করেননি।
গাইবান্ধা থেকে আসা আট তরুণের একটি দল প্রথমবারের মতো এসেছে মহাস্থানগড়ে। তাদের একজন ফরিদ আলী বলেন, ‘ভিডিওতে অনেক দেখেছি। তাই এবার সরাসরি দেখতে এলাম। পরিবেশ ভালো লাগছে। তবে ভিড় অনেক বেশি।’
‘বিশাল এই এলাকার প্রতিটি স্থানে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেক দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা আলগা হয়ে থাকা প্রাচীন ইটগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ছাড়া অন্য কারো জন্য খনন কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে এই সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে’—জাদুঘরের কাস্টডিয়ান
উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। নাগরদোলা, মাটির খেলনা, মিষ্টি, লোকজ খাবার, ধর্মীয় সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্যসহ হাজারো অস্থায়ী দোকান বসেছে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান, সারা বছরের আয়ের বড় অংশ আসে এই কয়েকদিনে।
তবে জনসমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগও। সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেকের। বিগত বছরের মতো এবারও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি করছে প্রশাসন।
মেলায় অস্থায়ী দোকান বসাতে শাবল দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করছেন এক ব্যক্তি /ছবি-জাগো নিউজ
আবু সাইদ নামের একজন আনসার সদস্য বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
বিপুল মানুষের সমাগম এবং যানবাহনের চাপ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করলেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান।
আরও পড়ুন:
মহাস্থানগড়ে আড়াই হাজার বছর আগের বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সন্ধান
হারিয়ে গেছে মহাস্থান জাদুঘরের একটি মূর্তি, জানা গেলো ১৯ বছর পর
মহাস্থানগড়ে মিলল পাল শাসনামলের নিদর্শন
মাটির নিচের প্রাচীন নগর!
তিনি বলেন, ‘মাজার ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। পুরো আয়োজন জুড়ে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য দুই পালায় দায়িত্ব পালন করবেন। পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিএসবি সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। মাদক বা বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে একাধিক সমন্বয় সভা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজারের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও প্রত্নস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ইতিহাসবিদদের মতে, শেষ বৈশাখ শুধু একটি লোকজ উৎসব নয়, উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। কথিত আছে, হযরত শাহ সুলতান মাহিসওয়ার বলখী (রহ.) বাংলায় এসে তৎকালীন রাজা পরশুরামকে পরাজিত করার পর এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরেই শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই আয়োজন।
মেলায় অস্থায়ী দোকান বসাতে শাবল দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করছেন এক ব্যক্তি /ছবি-জাগো নিউজ
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানে দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট চলাচল পথ, কম্পন নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ব্যবস্থা থাকে। অথচ মহাস্থানগড়ে এখনো সেই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। এখনই প্রত্নস্থানের সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, ভারী যানবাহন দূরে রাখা, মাটি খোঁড়া বন্ধ এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
আরও পড়ুন:
বিলীনের পথে অলওয়েদার সড়ক, দায় এড়াতে ব্যস্ত এলজিইডি-পাউবো
গিলা-চামড়াতেই মাংসের স্বাদ খুঁজছেন নিম্নবিত্তরা
সাতক্ষীরার ঝুড়িঝারা মাটির ঢিবি এখন দর্শনীয় স্থান
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে হযরত শাহ সুলতান বলখীর (রহ.) মাজারের বাৎসরিক উরস ও মেলা ঘিরে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা।
তিনি বলেন, ‘উরসের মেলায় আগত ব্যবসায়ীরা মাজার সংলগ্ন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যত্রতত্র খনন ও গর্ত করছেন, যা মাটির নিচে থাকা প্রাচীন স্থাপনাগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এই মেলাটি মূলত মহাস্থান মাজার ও মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর মেলা হওয়ায় ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
ঐতিহ্যবাহী এই স্থানের সুরক্ষায় সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশাল এই এলাকার প্রতিটি স্থানে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেক দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা আলগা হয়ে থাকা প্রাচীন ইটগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ছাড়া অন্য কারো জন্য খনন কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে এই সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেলা চলাকালীন অতিরিক্ত স্টাফ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা।
তিনি বলেন, ‘সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাচীন এই নিদর্শনগুলো রক্ষার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা বুঝে বা না বুঝে ক্ষতি করে ফেলছেন।’
এলবি/এসআর/জেআইএম

