ফরাসি রিভিয়ারার নীল জলরাশি, দূরে সারিবদ্ধ ইয়ট আর উজ্জ্বল রোদের নিচে দাঁড়িয়ে যেন এক চলমান ফ্যাশন-ফ্যান্টাসি হয়ে উঠেছেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ।
কান চলচ্চিত্র উৎসব বরাবরই শুধু সিনেমার মঞ্চ নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে অভিজাত ফ্যাশন প্রদর্শনীগুলোর একটি। আর সেই মঞ্চে জ্যাকলিনের এবারের উপস্থিতি ছিল একাধারে রাজকীয়, আধুনিক এবং নাটকীয়।
তার পরা গাউনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কালো-সাদা রঙের ক্লাসিক বৈপরীত্য।
ঝলমলে সিলভার-হোয়াইট বডিসের সঙ্গে গভীর কালো কাট ডিজাইন পুরো লুকটিকে দিয়েছে এক সাহসী এলিগ্যান্স।
পোশাকটির কোমরে বড় সাদা ফুলের অলংকার যেন পুরো সাজের কেন্দ্রবিন্দু-যা একই সঙ্গে ভিনটেজ হলিউড গ্ল্যামার এবং আধুনিক কুতুর ফ্যাশনের মিশ্রণ তৈরি করেছে।
লম্বা কালো গ্লাভস তার এই লুককে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। ফ্যাশনবিশ্বে অপেরা গ্লাভস আবারও ট্রেন্ডে ফিরছে, আর জ্যাকলিন যেন সেই ট্রেন্ডকেই নিখুঁত আত্মবিশ্বাসে ধারণ করেছেন।
তার হেয়ারস্টাইলও ছিল মিনিমাল অথচ শক্তিশালী-টাইট বান, যাতে পুরো ফোকাস থাকে পোশাক ও গয়নায়।
গলার হীরার নেকলেসটি পুরো সাজে যোগ করেছে অভিজাত ঝলক।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, অতিরিক্ত অলংকার ব্যবহার না করে তিনি পুরো লুকটিকে রেখেছেন পরিমিত ও পরিশীলিত। ফলে পোশাকের প্রতিটি ডিটেইল আলাদা করে চোখে পড়ে।
এই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ‘সিনেমাটিক’ আবেদন। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন কোনো ক্লাসিক ইউরোপিয়ান রোমান্স চলচ্চিত্রের দৃশ্য থেকে উঠে এসেছেন।
সমুদ্রপাড়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তার আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি পুরো ছবিটিকে দিয়েছে ম্যাগাজিন কাভারের আবহ।
কানের লালগালিচায় প্রতিবছর অসংখ্য তারকা নজর কাড়েন, কিন্তু সবাই আলোচনায় থাকেন না। জ্যাকলিনের এই উপস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে কারণ এখানে শুধু গ্ল্যামার নয়, ছিল স্টাইলের গল্প।
পোশাকটি ছিল নারীত্ব, শক্তি এবং অভিজাত রুচির এক ভারসাম্যপূর্ণ প্রকাশ।
বলিউড ফ্যাশনের সাম্প্রতিক ধারায় যেখানে অতিরিক্ত ঝলকানি প্রায়ই চোখে পড়ে, সেখানে জ্যাকলিন বেছে নিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত সৌন্দর্য। আর সেখানেই তার এই লুক হয়ে উঠেছে স্মরণীয়, নিঃশব্দ অথচ তীব্র এক স্টাইল স্টেটমেন্ট।
জেএস/

