Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeধুতি-পাঞ্জাবি পরে ‘বাঙালিবাবু’ সেজে হাজির মোদী

ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ‘বাঙালিবাবু’ সেজে হাজির মোদী

বাঙালির জাতিসত্ত্বা থেকে শুরু করে বাংলার অস্মিতা, নির্বাচনের আগে প্রতিটি প্রচারে এই নিয়ে কম গলা ফাটায়নি বিজেপি। বহিরাগত’ হিসেবে যতবারই সমালোচনার মুখে পড়েছে, ততবারই তারা অস্ত্র করেছে কখনো রবীন্দ্রনাথকে কখনো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এমনকি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কেও। সেই বাংলায় যখন তৃণমূলকে ধরাশায়ী করে বড় জয় পেলো বিজেপি, তখন সেই আনন্দের প্রকাশও যে আকাশছোঁয়া হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হলোও তাই।

গেরুয়া আবিরে কার্যত ছেয়ে গেল বাংলা। তবে চমকের আরও বাকি ছিল। রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তর থেকে মঞ্চে উঠে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তার পরনে ঘিয়ে রঙের গরদের ধুতি, গায়ে অফহোয়াইট রঙের তসরের পাঞ্জাবি। গলায় পাড়ওয়ালা উত্তরীয়। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ-সহ অন্যান্য নেতারাও। পাশে ছিলেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন।

প্রধানমন্ত্রীর এই রূপ দেখে তখন গোটা ময়দান উত্তাল ‘জয় শ্রী রাম’ আর ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে।

মোদী বক্তব্য রাখার আগে, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ভোটারদের ধন্যবাদ জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের জন্য দলের কর্মী-সমর্থকদেরও আলাদা করে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর পরে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন মোদী। প্রথমেই বলেন, গণতন্ত্র আমাদের জন্য শুধু আমাদের তন্ত্র নয় এটা আমাদের শিরায় বয়ে চলা সংস্কার। আজ ভারতের সংবিধান জিতেছে। তার কথায়, বিহারে জয়ের পরে এখান থেকেই সবাইকে বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার থেকে বয়ে গিয়ে গঙ্গাসাগরে মেশে। আজ বাংলা জয়ের পরে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সব জায়গায় পদ্ম ফুটেছে।

এর পরেই আলাদা করে বাংলার কথা বলতে শুরু করেন মোদী। বিপুল জয়ের আনন্দ সামনে রেখে, প্রাকনির্বাচনী প্রচারে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির ঢঙেই বলেন, আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল। বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হল। এই জয়ের সঙ্গে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে ভারত মাতা ও ঋষি বঙ্কিমকে বাংলার মানুষ নমস্কার জানিয়েছে। ঋষি অরবিন্দকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেলো

এরপরেই তিনি ঘোষণা করেন, ৪ তারিখের এই জয়ের পরে ২৫ বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে শপথ নেওয়া হবে বাংলার নতুন মন্ত্রিসভার।

এরপরে ফের বিদায়ী তৃণমূল সরকারের সমালোচনার সুর ধরেন মোদী। বলেন, হিংসা, তুষ্টিকরণে রাজনীতিকে মূল থেকে উপড়ে ফেলেছে মানুষ। আজ থেকে বাংলার ভবিষ্যতের এমন যাত্রা শুরু হচ্ছে যেখানে, বিকাশ-বিশ্বাস এগিয়ে যাবে। বাংলার উন্নতির জন্য বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে। বাংলায় মহিলাদের সুরক্ষার বাতাবরণ থাকবে। তরুণরা কাজ পাবে। প্রথম ক্যাবিনেটে আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, এই প্রথম, পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন করেন, বদলা নয় বদলের কথা হতে হবে। ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা হতে হবে। কে কাকে ভোট দিয়েছে, তার উপরে উঠে বাংলার সেবার জন্য কাজ করতে হবে।

মোদী বলেন, যখন ভারত আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল তখন তিন স্তম্ভ ছিল অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ। বাংলা থেকে ভারতের আত্মার আওয়াজ উঠতো। ব্রিটিশ শাসনে এই সব ধ্বংস হয়েছে। তাই বিকশিত ভারতের জন্য এই তিন স্তম্ভের উন্নত হওয়া খুব জরুরি। ভারতের উন্নয়নের জন্য নারীশক্তির উন্নয়ন জরুরি। কিন্তু কংগ্রেস তাদের উন্নয়ন আটকে দিয়েছে। আজ কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকেকে মা-বোনেরা শাস্তি দিয়েছেন।’

কংগ্রেস-টিমসির পাশাপাশি কমিনিস্টদের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, আজ ভারতের কোথাও কমিউনিস্ট সরকার নেই। এটা ভাবনার বদল। আজকের ভারত সুযোগ-বিকাশ-বিশ্বাস-উন্নতি চায়। আজকের ভারত এমন রাজনীতি চায়, যা দেশকে নিয়ে যায়। কিন্তু কংগ্রেস পুরো উল্টো রাস্তায় চলছে। যখন পুরো দেশ কমিউনিজম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে, তখন কংগ্রেস তাকে সুযোগ দিচ্ছে। কংগ্রেস আর্বান নকশালদের বাড়তে দিচ্ছে। তার শেষ কথা, আমাদের জন্য ভারত ও ভারতীয়ত্ব সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য ওয়াল

এসএএইচ