Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘উলবাকিয়া’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায় সরকার

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে উলবাকিয়া (Wolbachia) পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি...
Homeআল্লাহ যেভাবে শত্রুর মুখোশ খুলে দেন

আল্লাহ যেভাবে শত্রুর মুখোশ খুলে দেন

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-কলমের কিছু আয়াতে নবীজি (সা.) ও ইসলামের বিরোধিতায় মক্কার মুশরিকদের অপতৎপরতা তুলে ধরা হয়েছে। তারা নবীজির (সা.) সামনে আসলে নানা রকম আপোসের প্রস্তাব দিতো। ইসলামের শাশ্বত বিশ্বাসের সঙ্গে জাহেলিয়াতের অপবিশ্বাস, কুসংস্কার ইত্যাদি যুক্ত করতে বলতো। আর নবীজির (সা.) পেছনে তার ব্যাপারে নানা কথা বলে বেড়াতো, নানা মিথ্যা অপবাদ দিতো। আল্লাহ তাআলা তার নবীকে (সা.) নিষেধ করেছেন তাদের অপোস প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে এবং তাদের অপতৎপরতাও কঠোর নিন্দা করেছেন। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

(৮)

فَلا تُطِعِ الْمُكَذِّبِينَ

ফালা তুতি‘ইল মুকাযযিবীন।

অতএব তুমি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করো না।

(৯)

وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ

ওয়াদ্দূ লাও তুদহিনু ফাইউদহিনূন।

তারা কামনা করে, যদি তুমি আপোষকামী হও, তবে তারাও আপোষকারী হবে।

(১০)

وَلا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَهِينٍ

ওয়ালা তুতি’ কুল্লা হাল্লাফিম মাহীন।

এবং অনুসরণ করনা তার যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত

(১১)

هَمَّازٍ مَشَّاءٍ بِنَمِيمٍ

হাম্মা-ঝিম মাশশাইম বিনামীম।

যে পেছনে নিন্দা করে, একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।

(১২)

مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ

মান্নাইল লিলখাইরি মু‘তাদিন আসীম।

যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সীমালঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ,

(১৩)

عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ

উতুলিলম বা‘দা যালিকা ঝানীম।

রূঢ় স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;

(১৪)

أَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَبَنِينَ

আন কানা যা মালিওঁ ওয়া বানীন।

এ কারণে যে, সে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী।

(১৫)

إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا قَالَ أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

ইযা তুতলা আলাইহি আয়াতুনা কালা আসাতীরুল আওওয়ালীন।

যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, এগুলো পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনীমাত্র।

(সুরা কলম: ৮-১৫)

বিশ্বখ্যাত ইসলামি আলোচক নোমান আলী খান তার এক বক্তব্যে এই আয়াতগুলোর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা এবং আয়াতগুলোকে ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দের মর্মার্থ তুলে ধরেছেন। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে `How Allah Exposes Sneaky Backbiters’ শিরোনামে ওই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি।

নোমান আলী খান বলেন,

“মক্কার মানুষ রাসুলকে (সা.) ভালোবাসত। নবুয়্যতের ঘোষণার আগে চল্লিশ বছর ধরে তিনি মক্কার একজন সুনাগরিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যবসায়ে, পরিবারে, বন্ধুত্বে—সব ক্ষেত্রেই মানুষ তাঁকে ভালো জানত। নবুয়্যতের ঘোষণার পর কিছু মানুষ যখন প্রচেষ্টা শুরু করল যেন মানুষ তাঁর সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে—এটা তো সহজ কাজ ছিল না।

এই মুশরিকরা যখন নবীজির (সা.) সামনে আসত, তখন ভালো ব্যবহার করত, ভালো সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দিত, নিরাপত্তার আশ্বাস দিত। কিন্তু চলে যাওয়ার পর শুরু হতো ‘হামায’ যেমন উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে। আরবিতে ‘হামায’ মানে এমন তীর যা চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে আটকে যায়, এবং বের করতে গেলে চামড়া ছিঁড়ে আসে।

তারা নবীজির (সা.) ব্যাপারে পাগলামির অভিযোগ এনেছিল, কাজ হয়নি। জিনে পাওয়ার অভিযোগ এনেছিল, সেটাতেও কাজ হয়নি। তখন তারা ভিন্ন কৌশল নিল।

কোনো একজনের কাছে গেল যে পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। বলল, ‘মুহাম্মদের আসল সমস্যা জানো? সে পরিবার ভাঙছে। বাবা-ছেলের মধ্যে বিভেদ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ। মানুষ পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে।’ আরেকজনের কাছে গেল যে ব্যবসায়ী মানসিকতার। বলল, ‘মুহাম্মদ ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। আরবের এতগুলো গোত্র যারা তাদের প্রতিমার পূজা করতে মক্কায় আসে, তারা আর আসবে না। আমরা পর্যটন ব্যবসা হারাব।’

কেউ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, কেউ অর্থ নিয়ে, কেউ পরিবার নিয়ে—মক্কার এই মুশরিকরা জানত কাকে কীভাবে আঘাত করতে হয়। প্রত্যেকের দুর্বলতা ধরে ধরে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুনাম ভাঙার চেষ্টা করত।

এরপর আল্লাহ তাআলা এই মুশরিকদের আরেকটি বৈশিষ্ট্যের কথা বললেন, ‘নামিমা’। আরবিতে ‘নামিমা’ মানে অত্যন্ত হালকা বাতাস। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে ফুলের যে ক্ষীণ সুবাস পাওয়া যায়, সেটাকে বলে ‘নামিমা’। অর্থাৎ এমন কিছু যা খুবই সূক্ষ্ম, খুবই নাজুক।

নামিমা যে করে সে সরাসরি ঝামেলা শুরু করে না। শুধু একটা কথা ফেলে দেয় এবং আগুন জ্বলতে দেয়। অফিসে বা বন্ধুমহলে এমন মানুষ হয়ত আপনারা চেনেন, যারা নিজেরা ঝামেলায় নামে না, কিন্তু এক জায়গায় একটু উস্কে দেয়, আরেক জায়গায় আরেকটু।

‘হামায’ হলো খোলা আঘাত, সেই তীরের মতো যা ভেদ করে ভেতরে ঢোকে। আর ‘মাশশা-বিনামিম’ হলো সেই গোপন ফিসফিসানি যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। এই পুরোটা মিলিয়ে দাঁড়ায় একটা অত্যন্ত পরিকল্পিত প্রচারণা।

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সরলভাবে দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছেন, আর তাঁর পেছনে পুরো একটা নেটওয়ার্ক তাঁর প্রচেষ্টা ভাঙার চেষ্টা করছে। মনে হতে পারে তাঁর চিন্তিত হওয়া উচিত। কিন্তু আল্লাহ বললেন, চিন্তা করো না। আমি তোমাকে তাদের খেলা দেখিয়ে দিচ্ছি।

তারা বলে, ‘আমরা দেশের ভালো চাই, জনগণকে রক্ষা করতে চাই, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চাই।’ আল্লাহ বলছেন, এরা হলো সেই মানুষ যারা কোনো ভালো কাজ হতে দেয় না এবং যে কোনো আইন ভাঙতে দ্বিধা করে না। এরা সর্বদা গুনাহে লিপ্ত, সর্বক্ষণ অন্যায় করে চলে।

এরপর আল্লাহ আরেকটি শব্দ ব্যবহার করলেন, ‘উতুল্লা’। আরবিতে ‘উতুল্লা’ মানে এমন মাটির টুকরো যা বাকি মাটি থেকে কেটে আলাদা করা হয়েছে। যেমন বাড়ির পেছনে গর্ত খুঁড়লে মাটির যে স্তূপ আলাদা হয়ে পড়ে থাকে। এই ব্যক্তি নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনে করে। বাকি সবাই তার কাছে পোকামাকড়, গবাদিপশু, সংখ্যা আর পরিসংখ্যান মাত্র। শুধু সে আর তার গোষ্ঠী, এরাই গণনার যোগ্য। বাকিদের যা হওয়ার হোক।

সবশেষে আল্লাহ তাকে দিলেন সবচেয়ে বড় অপমান, যানিম। আরবে এই শব্দ ব্যবহার করা হতো এমন কাউকে বলতে যে নিজেকে কোনো গোত্রের বলে দাবি করে, কিন্তু আসলে বিবাহবহির্ভূতভাবে জন্ম নেওয়া। আল্লাহ এই শব্দ দিয়ে বোঝাচ্ছেন যে এই ব্যক্তির কোনো প্রকৃত আনুগত্য নেই, দেশের প্রতিও না, গোত্রের প্রতিও না, পরিবারের প্রতিও না। সে শুধু নিজের জন্য বাঁচে। সে চূড়ান্ত সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ। কথায় দক্ষ। প্রচারণায় পটু। কৌশলে সূক্ষ্ম। যে কোনো ভালো কাজ থামাতে পারদর্শী। এবং নিজের স্বার্থ ছাড়া সবার প্রতি বিশ্বাসঘাতক।

তাহলে এত খারাপ মানুষ প্রভাব বিস্তার করে কীভাবে? কারণ তার কাছে অর্থ আছে। তার কাছে লোকবল আছে। প্রাচীন যুগে ‘বানিন’ মানে ছিল সন্তান, মানে পারিবারিক সামরিক শক্তি। আধুনিক যুগে এটা হলো, পারমাণবিক অস্ত্র, ট্যাংক, আয়রন ডোম ।

এটাই আল্লাহর বিশ্লেষণ—কেমন মানুষের মুখোমুখি হতে হবে নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু কোরআনের প্রজ্ঞা হলো, আল্লাহ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বলেননি। বরং এই বৈশিষ্ট্যগুলো দিয়ে সব যুগের, সব দেশের সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের চিনিয়ে দিলেন—যারা আনুগত্যের ভান করে, কিন্তু শেষমেশ শুধু সম্পদ আর ক্ষমতার পূজা করে। আল্লাহর নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের প্রভাবে গা না ভাসিয়ে নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকো।

এই আয়াতগুলো যখন নাজিল হয়েছে, তখনও কোরআন পুরো মক্কায় ছড়িয়ে পড়েনি। এটি সম্ভবত প্রথম পাঁচটি ওহির মধ্যে একটি। মনে হচ্ছে যেন পরিস্থিতি অনেকটা তীব্র হয়ে গেছে। কিন্তু না, এটা প্রস্তুতি। এটা আসলে শত্রুর ব্যাপারে নবীজিকে (সা.) এবং শত্রুকেও আগাম সতর্ক করে দেওয়া।

তুমি মনে করছ বন্ধ দরজার পেছনে যা করছ আল্লাহ জানেন না, আল্লাহ জানেন এবং তিনি তাঁর রাসুলকেও জানিয়ে দিচ্ছেন।

এরা সবসময় নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখতে চায়। হাতে রক্ত লাগুক এটা চায় না। তাই অন্যকে দিয়ে নোংরা কাজ করায়। তাই তারা ‘নামিমা’ করে। কিন্তু আল্লাহ সব প্রচারণার আড়াল সরিয়ে, সব ধোঁয়াশা সরিয়ে সরাসরি তাদের দিকে আঙুল তুললেন। এটাই আল্লাহর কিতাবের শক্তি। এই কিতাব শত্রুর কৌশল উন্মোচন করে, শয়তান আর তার বাহিনীর ফাঁদ চেনায় এমনভাবে যা কেবল আল্লাহই পারেন।

আল্লাহ আমাদের সত্যের প্রতি অবিচল রাখুন এবং আমাদের কখনো এই ধরনের মানুষের কাতারে শামিল হওয়া থেকে রক্ষা করুন—ব্যক্তিগতভাবে, সমাজ হিসেবে এবং উম্মাহ হিসেবে।”

ওএফএফ