মেট গালা মানেই ফ্যাশনের এক ঝলমলে প্রদর্শনী, যেখানে পোশাক কেবল সাজ নয়; বরং শিল্পের এক শক্তিশালী ভাষা। আর সেই মঞ্চেই এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন কে-পপ তারকা লিসা। এবারের আয়োজনে তার উপস্থিতি যেন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী, রেড কার্পেটে তিনি যেন নিজেকেই রূপ দিলেন এক জীবন্ত শিল্পকর্মে।
গান, পারফরম্যান্স কিংবা অভিনয় সব ক্ষেত্রেই সাহসী উপস্থিতির জন্য পরিচিত লিসা। তবে ২০২৬ সালের মেট গালায় তার স্টাইল সেই সাহসিকতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ‘কস্টিউম আর্ট’ থিমকে ধারণ করে তিনি হাজির হন এক ঝলমলে, প্রায় স্বচ্ছ সাদা গাউনে, যা মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
এই অনন্য পোশাকটির নেপথ্যে ছিলেন হংকংয়ের খ্যাতিমান ডিজাইনার রবার্ট উন। মজার বিষয় হলো, গত পাঁচ বছর ধরে তার ডিজাইন পরলেও মেট গালার এই রাতেই প্রথমবার সরাসরি দেখা হয় লিসা ও উনের। ফলে এই উপস্থিতি হয়ে ওঠে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
গাউনটির কারুকাজ ছিল নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন। প্রায় ৬৭ হাজার ক্রিস্টালে সজ্জিত এই কাস্টম পোশাক আলোয় ঝিকমিক করে তৈরি করছিল এক স্বপ্নময় আবহ। তবে লুকটির আসল আকর্ষণ ছিল এর ভাস্কর্যধর্মী উপস্থাপনা, যা পুরো আউটফিটকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
ডিজাইনার উন এই ডিজাইনের অনুপ্রেরণা নিয়েছেন লিসার নিজের শরীর থেকে। পোশাকটির সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ ছিল থ্রিডি প্রিন্টেড দুটি হাত, যা ভেইলটিকে ধরে রেখেছে। এই হাতগুলো তৈরি করা হয়েছে লিসার নিজের হাতের আদলে, থ্রিডি স্ক্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এমনকি হাতের ভঙ্গিমায়ও ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী থাই নৃত্যের সূক্ষ্ম ছোঁয়া।

২০২৬ সালের মেট গালার ড্রেস কোড ছিল ‘ফ্যাশন ইজ আর্ট’ যেখানে পোশাককে শুধু স্টাইল নয়, বরং পরিধানযোগ্য শিল্প হিসেবে ভাবার আহ্বান জানানো হয়। লিসার এই উপস্থিতি সেই ধারণাকেই জীবন্ত করে তোলে। তার লুক প্রমাণ করে, ফ্যাশন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি হতে পারে ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার গভীর প্রকাশও।
জেএস/

