রাজনীতির মাঠে যারা সামনে থাকে, আলোটা সাধারণত তাদের ওপরই পড়ে। কিন্তু সেই আলো জ্বালানোর জন্য পেছনে যে হাজারো কর্মী বছরের পর বছর ঘাম ঝরায়, ত্যাগ স্বীকার করে, তাদের গল্প খুব কমই সামনে আসে।
অনেকেই আছেন, যারা ১৫-২০ বছর ধরে রাজনীতির জন্য নিজের জীবন, সময়, শ্রম—সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন। মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ সফল করতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করেছেন। গাড়ি ভাড়া দিয়েছেন, পোস্টার লাগিয়েছেন, রাত জেগে সংগঠনের কাজ করেছেন।
এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটা, মামলা-হামলার শিকারও হয়েছেন। কিন্তু সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, যাদের জন্য এত ত্যাগ, তারাই আজ বড় পদে। কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি, কেউ বড় নেতা। আর মাঠপর্যায়ের সেই কর্মীরা পড়ে আছেন আগের জায়গাতেই—অবহেলা আর হতাশা নিয়ে।
রাজনীতিতে ত্যাগের মূল্যায়ন হবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগীরা হারিয়ে যায়, সুবিধাভোগীরাই সামনে চলে আসে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা অসংখ্য কর্মীর মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ, কষ্ট আর বঞ্চনার অনুভূতি।
তবে এটাও সত্য, কোনো রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু বড় নেতাদের কারণে তৈরি হয় না। মাঠের কর্মীদের শ্রম, সাহস আর আত্মত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে পুরো সংগঠন। কর্মীরা না থাকলে সভা হয় না, মিছিল হয় না, আন্দোলন সফল হয় না।
তাই রাজনীতিতে শুধু নেতৃত্বের নয়, ত্যাগী কর্মীদেরও যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি। কারণ ইতিহাস বলে—যে সংগঠন কর্মীদের মূল্য দিতে জানে না, সেই সংগঠনের ভিত একসময় দুর্বল হয়ে পড়ে।
এমআরএম

