Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeযারা গবেষণায় সফলতা অর্জন করবে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে

যারা গবেষণায় সফলতা অর্জন করবে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, গবেষণা কার্যক্রমে নতুন উদ্ভাবন ও সফলতা অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক প্রদানসহ পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই গবেষণাকে। যারা গবেষণায় সফলতা অর্জন করবে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং সার্বিক বিবেচনায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘বিএলআরআইয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ ও মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, লাল কার্পেট নয়, আপনাদের গবেষণার সফলতাই আমাকে আনন্দিত করবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, বছরের ১২ মাস ফসল উৎপাদনের পরও আমরা কেন দরিদ্র থাকবো? এ বিষয়ে সবাইকে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে শাক-সবজি ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে উৎপাদন ও গবেষণাকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অতীতে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফ এবং কৃষকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফসহ কৃষকের কল্যাণে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

গবেষণায় বরাদ্দ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গবেষণায় অর্থায়নে আমাদের কোনো কৃপণতা নেই বরং আমরা আরও উদার হতে চাই। তিনি দেশের পতিত জমি ও দ্বীপাঞ্চলে ঘাস চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করা হবে।

jagonews24সভা শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন/ছবি: জাগো নিউজ

দেশীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের নিজস্ব ও অত্যন্ত মূল্যবান একটি জাত। এ জাতের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম জাত নিয়েও গবেষণার প্রশংসা করেন তিনি।

দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের আবহাওয়ার উপযোগী দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করতে হবে এবং এদের মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। 

স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. জিল্লুর রহমান। এছাড়াও ইনস্টিটিউটের পরিচিতি, সক্ষমতা, অবকাঠামো, চলমান গবেষণা কার্যক্রম এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে উপস্থাপনা করেন ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

সভা শেষে মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল গবেষণা খামার, মহিষ গবেষণা খামার, বিএলআরআই ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক এবং ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার ল্যাবরেটরি।

এনএইচ/এমএমকে