যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশ এবং মিত্রদের ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে স্বাক্ষর করতে হবে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে। সোমবার (২৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমি সব দেশকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুরোধ করছি তারা যেন অবিলম্বে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার সঙ্গে চুক্তি করে তাহলে তাদেরও এই বিশ্বজোটের অংশ হতে দেখা আমার জন্য সম্মানের হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে, কোনো চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ আবারও শুরু হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি হবে সবার জন্য একটি বড় চুক্তি। অন্যথায় বিকল্প রাস্তা হবে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফেরা।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে।
‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ কী?
ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম- এই তিন ধর্মেরই আদি পুরুষ হিসেবে সম্মানিত ইব্রাহিম (আঃ) এর নামে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়। নামটির মাধ্যমে ধর্মীয় ঐক্য ও শান্তির প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সুসম্পর্ক স্থাপন করতে আব্রাহাম অ্যাকর্ড উত্থাপন করেন। মূলত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য এ চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইন প্রথম এ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মরক্কো এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুদান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
আব্রাহাম চুক্তির মূল বিষয়
মূলত ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে আব্রাহাম চুক্তির মূল বিষয়গুলো গৃহীত হয়েছে।
(১) ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং এক দেশ অন্য দেশে দূতাবাস ও কনস্যুলেট খোলা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা।
(২) ইসরায়েল ও স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্যাবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং পর্যটন, কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার।
(৩) পরিবহন ও ভ্রমণ সুবিধার জন্য দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা। নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ এবং পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
(৪) মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে ইরান ও উগ্রপন্থার প্রভাব কমানো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
গত শতাব্দীতে ৪ টি আরব ইসরায়েল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনেক আরব দেশ ঘোষণা দিয়েছিল যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। কিন্তু আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয় যা ফিলিস্তিনপন্থী দেশগুলোর মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
ইসরায়েলের চুক্তিভঙ্গ
আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম চুক্তি ভঙ্গ করেছে দখলদার ইসরায়েলি সরকার। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়ে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে ৬ টি আরব দেশে হামলা চালায় ইসরায়েল। ৭২ ঘণ্টায় কাতার, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, তিউনেশিয়া ও ইয়েমেনে বিমান হামলা চালালে ৬ জন নিহত হয়।

