Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই যুবক নিহত

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার...
Homeপ্রতিকূল আবহাওয়ায়ও দ্রুত এগিয়ে চলছে বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণকাজ

প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও দ্রুত এগিয়ে চলছে বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণকাজ

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ।

প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই পিডিএল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, নদীর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আশপাশের জনপদ, মৎস্য খামার, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়াও PDL, RFL এবং BWDB-এর ব্যবস্থাপনা দল, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রকল্পটি সফলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল জাগো নিউজকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় ও নোয়াখালীর মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর ও গত বছর নোয়াখালী অনেক ভুগেছে। এজন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

রেফাত জামিল জানান, নদীর দুই দিক থেকে এক মাস ধরে কাজ চালিয়ে এনে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মঙ্গলবার ফাইনাল ক্লোজ করা। যদি সফল হই তাহলে পুরো সেকশনটি উঠে আসবে। এরপর জোয়ার ও পূর্ণিমার সময় বাড়তি পানির চাপ সামাল দিতে সেকশন ডেভেলপমেন্ট করতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৈরী আবহাওয়া, ঈদের ছুটি ও অন্যান্য প্রতিকূলতা থাকলেও কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। আজও (সোমবার) কাজ করেছি, কালও (মঙ্গলবার) করবো। আমাদের স্টাফরা শিফট করে কাজ করছেন।

তিনি জানান, জোয়ার-ভাটার কারণে কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। দিনে খুব অল্প সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। ‘আজ আমরা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছি। আবার রাতের শিফটে রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ চলবে।

প্রকল্পের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্লোজার খুব বেশি হয়নি। তারপরও আমরা সফলভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লোজার সম্পন্ন করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে কিছু স্ট্যান্ডিং ওয়ার্ক এবং উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকবে।

জানা গেছে, বামনী নদীর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, যা উপকূলীয় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

এ প্রকল্পের ফলে মৎস্য ও কৃষি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আরএএস/এমআইএইচএস