ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। টানা বৃষ্টি ও নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করেও অনেকে বাড়ির পথে ছুটছেন। তবে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাস টার্মিনাল গাবতলীতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কেটে নেওয়ায় সেখানে কাউন্টারে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিয়মিত সিডিউল অনুযায়ীই চলছে দূরপাল্লার বাস চলাচল। অধিকাংশ বাসেই আসন পূর্ণ থাকায় সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত বাস চালানোর প্রয়োজন হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন বাড়ির উদ্দেশে। দূরপাল্লার পরিবহনের পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বের লোকাল বাসগুলোতেও রয়েছে যাত্রীচাপ। টিকিট সংগ্রহ, বাসে ওঠা ও যাত্রা শুরু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, সাধারণ সময়ের মতো নিয়মিত সিডিউলের গাড়িগুলোই চলছে এবং সেগুলোতে আসন খালি নেই। তবে আশানুরূপ যাত্রী না পাওয়ায় সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত বাস ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
জননী পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মো. জামাল বলেন, ‘যাত্রীর চাপ কম। আমাদের গাড়িতে এখনো আসন খালি। আমি টিকিট বিক্রি করছি।’
সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. জাহিদ বলেন, গত ঈদের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি যাত্রীর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে আজ চাপ তুলনামূলক বেশি। তবে আমাদের সিডিউলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, আগের নিয়মিত সিডিউল অনুযায়ীই বাস চলাচল করছে। সব বাসেই যাত্রী পূর্ণ থাকলেও সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বাস চালানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রাসেল বলেন, এ বছর ঈদের বেশিরভাগ টিকিট আগেই অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে অধিকাংশ যাত্রীই অনলাইনে টিকিট কেটে সরাসরি যাত্রা করছেন, কাউন্টারে ভিড় কম। তাই পরিবেশ দেখে এটিকে ঈদের সময়ের ভিড় বলেই বোঝা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সিডিউলের কোনো বাসেই আসন ফাঁকা নেই। তবে সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত বাস চালানো হলে তখন আসন দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের কিছু বাস সবসময় রিজার্ভে রাখা থাকে। যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী এসব বাস চালানো হয়। কিন্তু বর্তমানে যাত্রী চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত বাস বাড়ানো হয়নি।
কেআর/এমএএইচ/

