সকালে বা বিকেলে হোটেলের গরম মচমচে পরোটা কার না পছন্দ! কিন্তু এই পরোটা ভাজার জন্য কোন তেল বা চর্বি ব্যবহার করা হচ্ছে তা জানলে আপনার গা শিউরে উঠতে বাধ্য!
ঘি বা সয়াবিন তেল ভেবে আপনি যা খাচ্ছেন তা আসলে ছাগলের পরিত্যক্ত চামড়া থেকে আসছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তায় সরেজমিনে দেখা গেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টা। পোস্তা চামড়ার আড়ত পট্টির অদূরেই চোখে পড়ে এক অস্বাস্থ্যকর দৃশ্য। আড়তের বাইরে ডাস্টবিন ও ড্রেনের পাশে পড়ে আছে শত শত ছাগলের পরিত্যক্ত চামড়া। একটি বন্ধ দোকানের সামনে এক যুবককে দেখা যায় ছুরি হাতে সেই চামড়া থেকে সাদা পাতলা স্তর ছাড়াতে।
প্রতিবেদক নিজের পরিচয় গোপন রেখে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বললে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জুয়েল নামের ওই যুবক প্রথমে দাবি করেন তিনি আড়তদারদের নির্দেশে চামড়ার গায়ের বাড়তি মাংস ছেঁটে ফেলছেন। তবে তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হয় এ প্রতিবেদকের। পরে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন, চামড়ার গা থেকে তিনি মূলত জমে থাকা চর্বি সংগ্রহ করছেন।
জুয়েল জানান, এটি তার নিয়মিত কাজ। প্রতিবছরই এই মৌসুমে তিনি ছাগলের চামড়া থেকে চর্বি সংগ্রহ করেন।
তার দাবি- বিভিন্ন হোটেল মালিকরা আমাদের কাছ থেকে এই চর্বিগুলো নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে যান। তারা এ চর্বি দিয়েই সারা বছর পরোটা ও অন্যান্য খাবার ভাজেন। ছাগলের চর্বি দিয়ে ভাজা পরোটা বেশ মচমচে হয়।
তিনি আরও জানান, অত্যন্ত সাবধানে ছুরি চালিয়ে এই চর্বি সংগ্রহ করতে হয়। কারণ এর ওপরই নির্ভর করে ভালো দাম।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে পরিত্যক্ত চামড়া থেকে সংগ্রহ করা এই চর্বি মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। ড্রেন বা ডাস্টবিনের ময়লাযুক্ত স্থানে পড়ে থাকা চামড়া থেকে সংগ্রহ করা এই চর্বি অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীরা পরিশোধিত না করেই সরাসরি রান্নায় ব্যবহার করছেন যা খাদ্যনিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। এতে মারাত্মক লিভার ও পেটের রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এএমএ

