পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তায় একটি আড়তের সামনে পরিত্যক্ত গরুর লেজ থেকে ছুরি দিয়ে চুল কাটছিলেন মধ্যবয়সী মোশাররফ হোসেন। দক্ষ কারিগরের মতো অল্প সময়ের মধ্যে ছুরির একেকটি কোপে লম্বা লেজের শেষ অংশে ঝুলে থাকা চুলের গুচ্ছটি কেটে সরিয়ে রাখলেন। অবশিষ্ট অংশটুকু বস্তায় ভরে বেঁধে পাশে রেখে দিলেন।
চুলগুলো দিয়ে কী করবেন – জানতে চাইলে একগাল হেসে তিনি বললেন, ‘গরম পানিতে ধুইয়া চামড়া থাইকা চুলগুলো টাইনা উঠামু। এরপর রোদে ভালো কইরা শুকাইতে দিমু। শুকানোর পর কেজি দরে বিক্রি করমু।’
‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো মানিক রতন’—বাংলা ভাষার এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটির বাস্তব প্রমাণ মিললো শুক্রবার (২৯ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে।
বেলা ১১টায় পোস্তায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গোটা এলাকা কোলাহলহীন ও শান্ত। ঈদের প্রথম দিনে এলাকাটি ছিল উৎসবমুখর। কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ধুম, ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক, লবণ লাগানোসহ নানা কাজে এলাকা ছিল ভীষণ জমজমাট। কিন্তু আজ সেখানে ভিন্ন দৃশ্য।
চামড়ার আড়তগুলো সব বন্ধ। ঈদের দিন বিকেল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত যারা ব্যস্ত ছিলেন, তাদের অনেকে বাসায় ফিরে গেছেন, কেউবা আড়তেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কর্মচারীদের কেউ কেউ বাইরে মাটিতে কিংবা বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
পোস্তার রাস্তাঘাটে পরিত্যক্ত গরুর লেজ ও ছাগলের চামড়ার কিছু অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি গত ২০ বছর যাবত পোস্তার একটি চামড়ার আড়তের কর্মচারী। প্রতি বছর ঈদের পর পরিত্যক্ত গরুর লেজ থেকে তিনি এই চুল সংগ্রহ করেন।
সংগ্রহ শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাজ করার পর প্রতি কেজি চুল তিনি ৮০ টাকায় বিক্রি করেন। তবে বড় সাইজের গরুর লেজের চুল সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বাড়তি কিছু টাকা আয় যা সংসারের কাজে লাগে বলে জানান তিনি।
মোশাররফ জানান, এই চুলগুলো বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক মিশিয়ে এই ব্রাশ তৈরি করা হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলোই পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অভাবী মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ তৈরি করে দেয়।
এমইউ/এমআরএম

