যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ১০২ কিলোমিটার সীমান্তের শিকারপুর, কাশিপুর, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট, দাঁদখালি, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, সীমান্তকে কোরবানির পশুর ‘চামড়া পাচারের রুট’ হিসাবে চিহ্নিত করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
বিশেষ করে রাতের টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।
যশোর ৪৯ ও খুলনার ২১ বিজিবি’র আওতাধীন শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ সব সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, পুশইন এবং কোরবানির পশুর চামড়া পাচার প্রতিরোধসহ ঈদ পরবর্তী যে কোনো প্রকারের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এবং খুলনা ২১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অধিনায়কদ্বয় বলেন, প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। কুরবানি পরবর্তী পশুর চামড়া যেন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যেতে না পারে, সেজন্য এবারও সীমান্তে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে আমাদের বিজিবি সদস্যরা।
এছাড়াও সীমান্তে সব ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমরা বিএসএফের সঙ্গে দফায় দফায় সীমান্ত সম্মেলন করছি। পুশইন, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমরা সতর্কতামূলক অবস্থায় রয়েছি। সীমান্তের সব ধরনের অপরাধ দমনে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বেনাপোলের দক্ষিণাংশের সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার এবার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ দৌলতপুর, পুটখালি, গোগা রুদ্রপুর, দাঁদখালি, পাঁচভুলোট ও অগ্রভুলোট সীমান্তের ইছামতি নদী দিয়ে চামড়া পাচারের শঙ্কার বিষয়টি মাথায় রেখে চামড়া পাচার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা, বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোসহ নদীতে টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, কোরবানি পরবর্তী কোরবানির পশুর চামড়া যেন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যেতে না পারে, সেজন্যও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি।
যশোরের সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের দিন বিকেল থেকে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা তুলনামূলক কম অথচ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, লবণের দাম বৃদ্ধি, ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা অনাদায়ী আর বকেয়া পরিশোধে টালবাহানার কারণে কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করছেন এখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোলের চামড়া ব্যবসায়ী মনির হোসেন, বাগআঁচড়ার শেখ সহিদুল ইসলাম, শার্শার মোসলেম আলি ও নাভারনের ইয়াকুব আলিও একই ধরনের কথা বলেন।
তারা বলেন, সরকার চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের ঋণ দিলেও সেই অর্থের পুরোটা তারা ব্যয় করেন না। এছাড়া স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা ঋণ পান না। কোরবানির সময় তাদের হাতে টাকা থাকে না। ফলে ‘সিন্ডিকেট করে’ চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। তখন বেশি দামের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেছে নেন সীমান্তের চোরাই পথ।
শার্শার চামড়া ব্যবসায়ী মোসলেম আলি বলেন, পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সঙ্কটের সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তারা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করে। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারীদের কাছে সেই চামড়া তুলে দেয়।
মো. জামাল হোসেন/এমআরএম

