বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো কোথায় দেখা যাবে, কারা করবে সম্প্রচার- এ প্রশ্ন যেন এখন সব ক্রীড়াপ্রেমীর। কিন্তু কেউ দিতে পারছিল না সেই প্রশ্নের জবাব। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে।
তবে এই অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমীদের সম্ভবত সব উদ্বেগের অবসান হতে যাচ্ছে। ভারতে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে যাচ্ছে দেশটির সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান জি নেটওয়ার্ক। জানা গেছে, ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি ডলারের (প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৩০ কোটি টাকা) বিনিময়ে বিশ্বকাপের সবগুলো তথা ১০৪টি ম্যাচ দেখানোর স্বত্ব কিনতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ফিফা ও জি নেটওয়ার্কের মধ্যে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে ভারতের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করেছিল রিলায়েন্স-ডিজনি। তবে ওই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। এছাড়া সনি পিকচার্স নেটওয়ার্কস ইন্ডিয়াও স্বত্ব কেনার সম্ভাবনা যাচাই করেছিল; কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো দরপত্র জমা দেয়নি।
নতুন সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, জি-নেটওয়ার্ক তাদের সদ্য চালু হওয়া স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে (Zee-5) বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচার করবে। শুধু ইংরেজি বা হিন্দিই নয়, একাধিক ভাষায় সম্প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, জি ইতোমধ্যেই বহুভাষিক সম্প্রচারের জন্য আলাদা টিম গঠন শুরু করেছে। মুম্বাইয়ের লোয়ার পারেলের স্টুডিও থেকে সম্প্রচার কার্যক্রমের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।
এটি ক্রীড়া সম্প্রচারে জি’র বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস’ ব্র্যান্ডের অধীনে চারটি নতুন স্পোর্টস চ্যানেল চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিন্দিতে ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস-১’ ও ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস-১ এইচডি’ এবং ইংরেজিতে ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস-২’ ও ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস-২ এইচডি’।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। এটিই হবে ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। পুরো টুর্নামেন্টে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ভারতীয় অঞ্চলের দর্শকরা সব ম্যাচই সরাসরি দেখতে পারবেন বলে জানা গেছে।
তবে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নির্ধারণে কিছু বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হয়েছে ফিফাকে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতীয় বাজারের জন্য ফিফা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের চাহিদামূল্য কমিয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা নিয়ে শঙ্কা।
কারণ, উত্তর আমেরিকান টাইম জোনে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের দর্শকদের অনেক ম্যাচই গভীর রাত কিংবা ভোরবেলায় দেখতে হবে। ফলে দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপন আয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় ছিল।
আইএইচএস/

