২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত, ব্যয়বহুল ও নাটকীয় আসর। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, আয়োজন, রাজনীতি, বিতর্ক, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চমকপ্রদ ফলাফলের কারণেও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলা এই আসরে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ অর্জন করে। আর ক্রোয়েশিয়া প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে।
রাশিয়ায় আয়োজিত ২১তম ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেয় ৩২টি দল। ১১টি শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মোট ৬৪টি ম্যাচ। প্রায় ৩ মিলিয়নের বেশি দর্শক মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেন। প্রায় ১৪.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ ছিল, যা পরে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ছাড়িয়ে যায়।
কিভাবে আয়োজক হলো রাশিয়া!
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালে। শুরুতে একাধিক দেশ আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত রাশিয়া, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস-বেলজিয়াম এবং পর্তুগাল-স্পেন আয়োজক হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকে। ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার নির্বাহী কমিটির ভোটে রাশিয়া জয়ী হয়ে আয়োজক হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। পর্তুগাল-স্পেন দ্বিতীয় এবং বেলজিয়াম-নেদারল্যান্ডস তৃতীয় হয়। ইংল্যান্ড প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে।
তবে রাশিয়াকে আয়োজক নির্বাচনের পর শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। বর্ণবাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এলজিবিটি বৈষম্য, দুর্নীতি এবং ভোট কেনাবেচার অভিযোগ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিও ওঠে। পরবর্তীতে ফিফা তদন্ত করলেও আয়োজক স্বত্ব বহাল থাকে।
বিশ্বকাপের আগে বিতর্ক আর নিরাপত্তা শঙ্কা
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল স্টেডিয়াম নির্মাণে শ্রমিক নির্যাতন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছিল, অনেক শ্রমিক বেতন পাননি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেছেন এবং প্রতিবাদ করায় শাস্তির মুখে পড়েছেন। উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগও ওঠে।
এছাড়া রাশিয়ান ফুটবলে বর্ণবাদ ও নিও-নাৎসি প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ছিল প্রবল। ফিফা এবং রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়। ৪০০-র বেশি সমর্থককে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়।
সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কাও ছিল বড় ইস্যু। ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিশ্বকাপ চলাকালে হামলার হুমকি দিয়েছিল। রাশিয়া কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করে।
প্রথমবারের মতো ভিএআরের ব্যবহার
২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকলো। এই আসরেই প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহার করা হয়। মস্কো থেকে সব ম্যাচের ভিএআর পরিচালনা করা হয়েছিল।
পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের দিয়েগো কস্তার গোল ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ভিএআর সমর্থিত গোল। ফ্রান্স বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ভিএআর-এর মাধ্যমে প্রথম পেনাল্টি দেওয়া হয়, যেখান থেকে গোল করেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান।

ভিএআর ব্যবহারের ফলে রেকর্ডসংখ্যক পেনাল্টি হয় পুরো টুর্নামেন্টে। প্রযুক্তিটির প্রশংসা যেমন হয়েছে, সমালোচনাও ছিল সমানভাবে।
ড্র ও গ্রুপ বণ্টন
২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর মস্কোর স্টেট ক্রেমলিন প্যালেসে। সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকার ড্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে সহায়তা করেন ফুটবল বিশ্বের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি, যার মধ্যে ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, ফ্যাবিও কানাভারো, কাফু, দিয়েগো ফোরলান, গর্ডন ব্যাংকস, কার্লেস পুয়োল, লরেন্ট ব্ল্যাঙ্ক এবং সাবেক রুশ ফুটবলার নিকিতা সিমোনিয়ান।
ড্রয়ের মাধ্যমে ৩২টি দলকে আটটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপে ছিল চারটি করে দল। চারটি আলাদা পট থেকে একটি করে দল নিয়ে গ্রুপগুলো গঠন করা হয়।
অংশগ্রহণকারী দল ও চমক
২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নেয় ৩২টি দল। এর মধ্যে আইসল্যান্ড ও পানামা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। আইসল্যান্ড হয়ে যায় ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ, যারা বিশ্বকাপে খেলেছে। যদিও ২০২৬ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে কুরাসাও।
দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরে আসে মিশর, মরক্কো ও পেরু। এছাড়া সেনেগাল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেয়। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইতালির অনুপস্থিতি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও চিলিও জায়গা পায়নি।
জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ১৪ জুন, বৃহস্পতিবার মস্কোর ঐতিহাসিক লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ছিল বর্ণিল আয়োজন, সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অনন্য মেলবন্ধন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো একটি রাশিয়ার জার্সি পরা শিশুকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। জনপ্রিয় ব্রিটিশ পপ তারকা রবি উইলিয়ামস এককভাবে তার দুটি গান পরিবেশন করেন। পরে রাশিয়ান সোপ্রানো গায়িকা আইদা গারিফুলিনার সঙ্গে একটি ডুয়েট পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।
এছাড়া ‘ফুটবল ফর ফ্রেন্ডশিপ’ নামের আন্তর্জাতিক শিশু সামাজিক কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের ২১১টি দেশ ও অঞ্চলের তরুণ অংশগ্রহণকারীরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্য ও বন্ধুত্বের বার্তাকে আরও জোরালো করে তোলে।
গ্রুপ পর্বেই জার্মানির বিদায়
২০১৮ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় ঘটনা ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপাধারী দল জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শিরোপাধারী দল প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে। এর আগে ২০১০ সালে ইতালি এবং ২০১৪ সালে স্পেন একই পরিণতির শিকার হয়েছিল।
১৯৮২ সালের পর এই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি। একই সঙ্গে এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ‘ফেয়ার প্লে’ নিয়ম ব্যবহার করে একটি দলকে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত করা হয়। সমান পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যা থাকার পর কম হলুদ কার্ড পাওয়ার কারণে সেনেগালকে পিছনে ফেলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় জাপান।
গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল- ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচটি। এর আগে টানা ৩৬টি ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
নকআউট পর্ব
২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে একটি নতুন নিয়ম চালু করা হয়। কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গেলে প্রতিটি দলকে চতুর্থ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অতিরিক্ত সময়ে অতিরিক্ত বদলির নিয়ম ছিল না।
ফ্রান্সের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়
১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ফ্রান্স ৪-২ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। এর মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে ফরাসিরা।
ক্রোয়েশিয়ার জন্য এটি ছিল প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের জন্য লুকা মদরিচ জেতেন গোল্ডেন বল। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৬ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস পান বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া।
৭৮ হাজার ১১ জন দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ফাইনাল ম্যাচটি টেলিভিশনে দেখেছিলেন বিশ্বের ১.১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ। ম্যাচের রেফারির দায়িত্বে ছিলেন আর্জেন্টিনার নেস্তর পিতানা।
ফ্রান্স ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ষোলোতে ওঠে। সেখানে তারা আর্জেন্টিনাকে হারায়, কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে বিদায় করে এবং সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ‘ডি’ গ্রুপে টানা তিন জয় নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে যায়। শেষ ষোলোতে ডেনমার্ক এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ক্রোয়াটরা।
ফাইনালের ১৮ মিনিটে ফ্রান্স এগিয়ে যায় বিতর্কিত এক ফ্রি-কিক থেকে। আন্তোনিও গ্রিজম্যানের নেওয়া বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠান ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচ। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম আত্মঘাতি গোল।
তবে ১০ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান ইভান পেরিসিচ। বক্সের ভেতর থেকে নিচু শটে গোল করে তিনি ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে ফেরান।
এরপর ম্যাচের অন্যতম বড় বিতর্ক তৈরি হয় ভিএআর নিয়ে। পেরিসিচের হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি পিতানা। অনেক বিশ্লেষক সিদ্ধান্তটিকে কঠোর বলে সমালোচনা করেন। ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা অ্যালান শিয়ারার একে ‘হাস্যকর’ বলেছিলেন, যদিও ক্রিস ওয়াডল সিদ্ধান্তটিকে সঠিক বলে মনে করেন।
সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ফ্রান্সের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় ফরাসিরা। ৫৯ মিনিটে পল পগবা প্রথম শট প্রতিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান।
এরপর ৬৫ মিনিটে গোল করে ইতিহাস গড়েন কিলিয়ান এমবাপে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১। ১৯৫৮ সালে পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েন এমবাপে। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর।
৬৯ মিনিটে ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিসের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মানজুকিচ। তবে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ফ্রান্স।
ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। ১৯৬৬ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ গোল হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল। এছাড়া ২০০২ সালের পর প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপ ফাইনাল অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়ায়নি।
শিরোপা জয়ের পর ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘১৯৯৮ সালে আমি অধিনায়ক হিসেবে যে অভিজ্ঞতার অংশ ছিলাম, এই দলও ঠিক তেমনই এক অসাধারণ যাত্রা সম্পন্ন করেছে।’
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ ফ্রান্সকে অভিনন্দন জানালেও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন পেনাল্টি দেওয়া উচিত নয়।’
মেসি-রোনালদোদের হতাশা
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে হেরে বিদায় নেয়। এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে করেন জোড়া গোল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও একই ধাপে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ছিটকে পড়ে।
নেইমারের ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও এই পর্বে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। অন্যদিকে স্বাগতিক রাশিয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
রেকর্ড আর পরিসংখ্যান
* লুকা মদরিচ জেতেন গোল্ডেন বল
* হ্যারি কেইন করেন সর্বোচ্চ ৬ গোল
* থিবো কোর্তোয়া জেতেন গোল্ডেন গ্লাভস
* ৩ মিলিয়নের বেশি দর্শক মাঠে খেলা দেখেন
* ৬৪ ম্যাচে হয়েছিল ১৬৯ গোল
* টুর্নামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক পেনাল্টি দেওয়া হয়
* জাপান ফেয়ার প্লে রুলে নকআউটে ওঠে
* জার্মানি ৮০ বছরের মধ্যে প্রথমবার গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে
বিশ্বকাপের অবকাঠামো ও ব্যয়
রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে ১২টি স্টেডিয়াম নির্মাণ বা সংস্কার করে। লুঝনিকি, সেন্ট পিটার্সবার্গ, কাজান অ্যারেনা, সামারা অ্যারেনা, ফিশট স্টেডিয়ামসহ একাধিক ভেন্যু নতুনভাবে তৈরি করা হয়।
নতুন বিমানবন্দর, ট্রামলাইন, হোটেল, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিবহন খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। শুধু পরিবহন অবকাঠামোতেই ব্যয় হয় কয়েক বিলিয়ন ডলার। টিকিটধারীদের জন্য ফ্রি গণপরিবহন সুবিধাও চালু করেছিল রাশিয়া।
স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ
২০১৮ বিশ্বকাপ ছিল প্রযুক্তি, নাটকীয়তা, চমক, বিতর্ক ও আবেগে ভরপুর এক আয়োজন। ফ্রান্সের দ্বিতীয় শিরোপা, ক্রোয়েশিয়ার রূপকথা, জার্মানির ধস, ভিএআরের সূচনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক- সব মিলিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
আইএইচএস/

