তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি প্রবল জনরোষের মুখে পড়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সংসদ সদস্য অভিষেককে দেখে চোর-চোর স্লোগান দেওয়া ও বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। মারা হয় চড়-ঘুষি। এমনকি চটিও ছুড়ে মারতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ছিঁড়ে ফেলা হয় তার পরনের সাদা রঙের জামা।
ভয়ংকর এই পরিস্থিতির মুখে পড়ে দলের এক সহকর্মী অভিষেককে হেলমেট পরিয়ে দেন। এতে করে কোনোক্রমে রক্ষা পান তিনি। তবে তার চশমা ও হাতের ঘড়ি ভেঙে গেছে বলে খবর মিলেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পরে নিহত সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন। সে সময়েও বাইরে থেকে চোর-চোর স্লোগান দিতে শোনা যায় বিক্ষোভকারীদের।
তখন অভিষেক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ডবল ইঞ্জিনের নমুনা। সবাই চেয়েছিল ডাবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার লাশ এখান থেকে বেরোবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেলো শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইলো। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি, কিন্তু এই পরিবারের ওপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এদের ছেড়ে যেতে পারবো না। বাহিনী পাঠিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’

এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসে অভিষেককে সেখান থেকে বের করে আনে। তারপরই কলকাতা বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে পৌঁছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। ওপর থেকে বলে দিয়েছে, ট্রিটমেন্ট না করতে।’
অভিষেককে তারপর বাইপাসের ধারের ওই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে আনা হয়। দৃশ্যত বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল তাকে। তিনি ধীরে ধীরে গাড়িতে ওঠেন। গাড়িতে তার পাশে বসেছিলেন কলকাতার সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এখান থেকে অভিষেককে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিষেকের ওপর হামলা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নোয়াপাড়ার বিজেপির বিধায়ক তথা বাহুবলি নেতা অর্জুন সিং বলেন, ‘৩২১ জনের হত্যাকারী, ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের লক্ষ পরিবারকে শেষ করেছেন, হাজারো পরিবারকে বাংলা ছাড়তে বাধ্য করেছেন, অসংখ্য মিথ্যা মামলা করেছেন অভিষেক ব্যানার্জি। আজকে চোর-চোর স্লোগানের সঙ্গে সোনারপুরের জনগণ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জি যে অভিযোগটি করছে সেটা মিথ্যা অভিযোগ। তার ওপর জনরোষ হয়েছে। সেখানকার জনগণ তার ওপর ডিম ছুড়ে মেরে স্বাগত জানিয়েছে।’
বিজেপির বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির সময় তিনি (অভিষেক) অসংখ্য পুলিশ নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলতেন। এখন সঙ্গে পুলিশ নেই, দেখা যাচ্ছে তিনি কত বড় মস্তান। আমি বলতে পারি, যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা একদমই কাম্য নয়। লোকতন্ত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটার আশা করি না। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তার সঙ্গে এটাও বলবো, প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান বিপরীত ক্রিয়া থাকে।
ডিডি/একিউএফ

