‘ঘরের বাইরে তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম। সকালে স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়ে সামরিক জাদুঘর ও নভোথিয়েটারে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরে। বিকেলে রোদের তেজ কিছুটা কমার পর বাচ্চাদের নিয়ে বের হলাম। এখানে এসে তারা খুব এনজয় করছে। তাদের আনন্দ দেখে এখন আর বাইরে ভ্যাপসা গরম লাগছে না।’
রোববার (৩১ মে) বিকেল ৪টায় সামরিক জাদুঘরের সামনে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেলিম রেজা।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঈদ বাচ্চাদের জন্য বড় আনন্দের। আমি যখন ছোট ছিলাম, ঈদ ছুটিতে কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবো সে প্ল্যান আগেই বাবাকে জানিয়ে রাখতাম। এখন আমার ছেলে-মেয়েরা আমার কাছে ঘুরতে যাওয়ার বায়না করলে সেই স্মৃতি মনে পড়ে। তাই বাচ্চাদের কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখতে চাই না। সাধ্যের সবটুকু সময় তাদের দিতে চাই।

গত ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন হয়েছে। সে হিসেবে আজ ঈদের চতুর্থ দিন। তবে গত দু-তিন দিনের মতো এদিনও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন ঢাকার বাসিন্দারা। বিকেলে রাজধানীর নভোথিয়েটার ও সামরিক জাদুঘর ঘুরে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
সামরিক জাদুঘর: বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর বিজয় সরণিতে অবস্থিত। এ জাদুঘরটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনা করে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাফল্য সংক্রান্ত নিদর্শন ও বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রের সংগ্রহ নিয়ে এ জাদুঘরটি সজ্জিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামরিক জাদুঘরে ঢুকতে পৃথক দুটি ফটকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন দর্শনার্থীরা। টিকিট সংগ্রহ শেষে লাইনের মাধ্যমে টিকিট চেক করে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন চেকাররা। দর্শনার্থীদের ঈদের রঙিন পোশাকে জাদুঘরও যেন উৎসবের ছোঁয়া পেয়েছে। শিশু-কিশোরদের কোলাহলে মুখর এই জাদুঘরে যেন ঈদের সাজ সাজ রব চলছে। আর জাদুঘরের সামনের ফুটপাতে শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণে নানান পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সামরিক জাদুঘরে শিশুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন কলাবাগানের তানভীর আলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সবসময় পরিবারকে সময় দেওয়া হয় না। সাধারণত ঈদের ছুটিতে ফাঁকা শহরে পরিবার নিয়ে বের হতে পারি। ঈদের দিন থেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরছি। গতকাল শনিবার (৩০ মে) চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম। আজ এখানে এলাম। সন্ধ্যার আগে নভোথিয়েটার ঘুরে বাসায় ফিরবো।
ছয় বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিনগর থেকে সামরিক জাদুঘরে ঘুরতে এসেছেন সাদ্দাম হোসেন। ১০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটেন তারা। জাদুঘরে প্রবেশের আগে সাদ্দাম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে অফিস শুরু। চাইলেও ঘুরতে বের হতে পারবো না। এজন্য যতটুকু সম্ভব ছুটির দিনগুলো সবাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। উপভোগ করছি।
নভোথিয়েটার: বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘরের দেয়াল ঘেঁষে নভোথিয়েটার অবস্থিত। অজানাকে জানানোর সুযোগের পাশাপাশি মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই নভোথিয়েটারে আছে ফাইভ-ডি মুভি থিয়েটার, সিমুলেটর রাইড, ফাইভ-ডি ইন্টেরিয়েকটিভ এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর, ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারি, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি এবং গ্রহ ও সৌরজগতের প্রতিরূপ। এছাড়া থিয়েটারের সামনে রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার নানা রাইড।

নভোথিয়েটারে ঘুরতে আসা মিরাজুল ইসলাম বলেন, বাচ্চারা ঘুরতে পছন্দ করে। স্ত্রীও বেশ কয়েকদিন ধরে বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরেছে। তাই আজ ওদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। তবে ঈদের ছুটিতে ঢাকায় গণপরিবহন কম থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
পুরান ঢাকার বংশাল থেকে বাসে করে নভোথিয়েটারে এসেছেন কায়সার আলম। তিনি বলেন, রাজধানীতে ঘোরার জায়গা খুবই কম। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। এতে করে ওই এলাকার মানুষের ঈদ আনন্দ থাকে ঘরবন্দি।
এমএমএ/এমকেআর

