আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং ব্যয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা রোববার জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিলোন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৪১০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৪৩৪ রুপি করা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ৩৯২ রুপি থেকে বৃদ্ধি করে ৪০৭ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি এমন সময় এলো, যখন কয়েকদিন আগে আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৬৯৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন কিস্তি ছাড় করে। ২০২৩ সালের শুরুতে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে এই ঋণ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছিল।
আইএমএফ চায়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করা হোক যাতে সরকারের ভর্তুকির পরিবর্তে প্রকৃত ব্যয় আদায় করা সম্ভব হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে শ্রীলঙ্কা সরকার এসব খাতে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল।
অনুরা কুমার দিশানায়েকে আইএমএফকে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপর থেকে শ্রীলঙ্কায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের দামও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা তার সব ধরনের তেল আমদানি করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ওপরও নির্ভরশীল। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কলম্বো।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ২০২২ সালে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকে আইএমএফের সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম

