ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে রোববার (৩১ মে)। সোমবার (১ জুন) থেকে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে রোববার সকাল থেকেই কর্মস্থলের উদ্দেশে ফিরতে শুরু করেন হাজারো মানুষ। আর সেই চাপ গিয়ে পড়েছে বগুড়ার বাস টার্মিনালগুলোতে।
কাউন্টারে টিকিট সংকট, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন কর্মস্থলমুখি মানুষেরা।
রোববার দিনভর বগুড়া শহরের সাতমাথা, চারমাথা, বনানী, ঠনঠনিয়া ও মাটিডালী বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগামী বাসগুলোর কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, আগেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে বেশি দামে টিকিট বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে বা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাত্রা করছেন।
গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটা কাউন্টারে ঘুরেছি। টিকিট নাই বলে। পরে একজন এসে বললো ৭০০ টাকার টিকিট ৯০০ টাকায় দিলে ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।’
শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈদের সময় পরিবার নিয়ে বাড়ি আসছিলাম স্বস্তিতে। এখন কর্মস্থলে ফেরার সময় বাসে উঠতেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ভাড়াও বেশি নিচ্ছে।’

বনানী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, নির্ধারিত আসনের বাইরে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়েও যেতে হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের আগে প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও ছুটি শেষে ফেরার সময় পরিবহন খাতে তদারকি তুলনামূলক কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিচ্ছেন।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীচাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিকাংশ মানুষ একদিনেই কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন। ফলে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শাহ সুলতান পরিবহণ কাউন্টারের কর্মী ফজলু বলেন, ‘যাত্রীর ভিড় আছে। তবে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’
এদিকে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে টাকা আদায় এবং টিকিট নিয়ে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।
এফএ/এমএস

