রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন আজকে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ একদিনেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুপুর ১২টা পর্যন্ত দশজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মামলার বাদী হিসেবে সাক্ষী তালিকায় রয়েছেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। প্রত্যক্ষ ও ঘটনাসংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন শিশুটির মা পারভীন আক্তার, বোন রাইসা আক্তার, শেখ আবু সামা, মো. মনির হোসেন এবং মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম ওরফে রাজু।
এ ছাড়া সুরতহাল, জব্দ তালিকা ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান লিটন, মাহমুদা খাতুন, মনিরুজ্জামান শাহীন, এসআই রাশেদুল ইসলাম, রুমা আক্তার এবং কনস্টেবল মো. শরিফ মিয়া।
প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেন, এএসআই মো. ইসহাক আলী এবং সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ শুভজয় বৈদ্যসহ আরও কয়েকজন।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানা ও অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে উপস্থিত করে শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়ে ২ জুন দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পর্যায়ক্রমে সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার বিচার এগিয়ে যাবে।
এমডিএএ/এমএএইচ/

