Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeমুখ থুবড়ে পড়েছে এনসিডি কর্নার, বন্ধ ওষুধ সরবরাহ

মুখ থুবড়ে পড়েছে এনসিডি কর্নার, বন্ধ ওষুধ সরবরাহ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাইলট প্রকল্পে চালু হওয়া ‘এনসিডি’ সেবা চলছে হাসপাতালের সাধারণ নিয়মে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জনবল সংকট ও ওষুধ ঘাটতি থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডি) সেন্টার মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জানা যায়, চালুর প্রথম দিকে এনসিডির আওতায় রোগীদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের ওষুধ পেতেন ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা। সেই সঙ্গে বিনামূল্যে ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা হতো।

তবে, চলতি বছরের শুরু থেকে থমকে গেছে ওষুধ সরবরাহ। এনসিডি কর্নারে নেই প্রশিক্ষিত নার্স। চুক্তিভিত্তিক অফিস সহকারী বা অস্থায়ী কর্মী দিয়ে করানো হয় নার্সের কাজ। ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না এনসিডিসি প্রকল্পের অধীন নিবন্ধিত কার্ডধারী রোগীরা। এতে বাড়ছে অসন্তোষ ও ভোগান্তি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ সেবা প্রদান ও মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে ২০১৯ সালে এনসিডি কর্নার চালু করা হয়। হাসপাতালে পুরনো ভবনের ১০৯ নম্বর কক্ষে শুরু হয় এনসিডি কর্নারের কাজ।

প্রকল্প চালুর প্রথম দিকে এনসিডি কর্নারে রোগীরা বিনামূল্যে ডায়বেটিস নির্ণয়, উচ্চ রক্তচাপ পরিমাপসহ এসব রোগের জন্য ওষুধ পেতেন বিনামূল্যে। রোগীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পেয়েছিলেন কার্ড। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল ওষুধপ্রাপ্তির হিসাব সংরক্ষণের জন্য সবুজ রঙের বই। সেই বই মূলে প্রত্যেক রোগী এক মাসের ওষুধ বিনামূল্যে পেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিডি কর্নারে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের প্রথম দিকে রোগীরা কার্ডের মাধ্যমে ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পেতেন। প্রত্যেক রোগীকে এক মাসের ওষুধ দেওয়া হতো। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এসে এনসিডি প্রকল্প থেকে ওষুধ সরবরাহ কমতে শুরু করে। গত বছরও কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। তবে চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘এনসিডিসি’ প্রজেক্ট থেকে কোনো ওষুধ আসেনি। এতে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

জানা গেছে, আগে এনসিডি কর্নারে কেবল মাত্র ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা পেতেন। তবে এখন চিকিৎসকরা এনসিডি কর্নারে সব ধরনের রোগী দেখেন। এতে ‘এনসিডিসি’ প্রজেক্টের অধীন কার্ডধারী রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। বাড়ছে ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত দুস্থ ও অসহায় রোগীদের ভোগান্তি।

এনসিডি কর্নারে দায়িত্বরত সহকারী সার্জন ডা. কোমল কুমার বলেন, এই কর্নারে প্রতিদিন গড়ে ২০০-২৫০ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। আগে এসব রোগী একবারে এক মাসের ওষুধ পেতেন। এখন কেউ এক সপ্তাহ, কেউবা ১৫ দিন আবার কাউকে ২০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘এনসিডিসি’ বিভাগ থেকে আগে ওষুধ আসতো, এখন আসে না। যে কারণে রোগীদের সম্পূর্ণ ওষুধ দেয়া যাচ্ছে না।

মুখ থুবড়ে পড়েছে এনসিডি কর্নার, বন্ধ ওষুধ সরবরাহ

সেলিনা খাতুন নামে এক সেবাপ্রার্থী বলেন, আমি উচ্চ রক্তচাপের রোগী। আগে এখানে এসে প্রেসার মাপার পরে এক মাসের ওষুধ দিতো। এখন ১০ দিনের ওষুধ দেয়। নিয়মিত টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়া আমার জন্য কষ্টের।

হাশেম আলী নামে আরেক রোগী বলেন, ২০১৯ সালে এই ঘরে ডায়বেটিসের রোগীদের রক্ত পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। ডাক্তাররা বসতেন। নার্স ছিলেন। এখন আর নার্স নেই। শুনেছি, অফিস সহায়ক দিয়ে নার্সের কাজ করানো হচ্ছে। আমরা তো অতো কিছু বুঝি না। এখানে আর আগের মতো সেবা পাওয়া যায় না। ডাক্তার এই আছে, এই নেই। নার্স নেই। কোনো শৃঙ্খলা নেই। আবার ওষুধও কম দিচ্ছে।

হাসপাতালের স্টোর বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে হাসপাতালের মোট ওষুধ ক্রয়ের মধ্যে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ওষুধ এনসিডির জন্য কেনা হতো। বাকিটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি প্রকল্পের আওতায় অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) মাধ্যমে যোগান দেওয়া হতো। ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৫ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। তবে সেই যোগান বন্ধ হওয়ায় ‘এমএসআর’ এর মাধ্যমে হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ের মোট খরচ বাড়বে। এর মধ্যে এনসিডি’র ওষুধ ক্রয় বাবদ খরচ দাঁড়াবে মোট খরচের প্রায় ২২ শতাংশ।

এসব বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এনসিডি কর্নার এখন সারাদেশের সব হাসপাতালেই প্রায় চালু হয়েছে। তবে আমাদের এখানে পাইলট প্রকল্পের অধীন প্রথম ধাপে চালু হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে ওষুধ ও অন্যান্য সাপোর্ট ভালোই পেয়েছি। এখন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি। আগে রোগীদের জন্য ইডিসিএল (অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস) থেকে এনসিডির ওষুধ আসতো। চলতি বছরের শুরু থেকে সেটি বন্ধ। যে কারণে হাসপাতালের বাজেট থেকে এনসিডি কর্নারের রোগীদের ওষুধ কিনতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধের সরবরাহ কম। যে কারণে রোগীদের এক মাসের পূর্ণ কোর্সের ওষুধ দেওয়া হয় না। সবাই যাতে ওষুধ পায়, এজন্য ১০ দিন বা ১৫ দিনের হিসেব করে ওষুধ দেওয়া হয়। এনসিডির জন্য বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসক এই হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত নেই। যে কারণে সকল চিকিৎসক রোটেশন অনুযায়ী এনসিডি কর্নারে দায়িত্ব পালন করেন। একজন নার্স এনসিডিতে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি ছুটিতে থাকায় অন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

এম শাহাজান/এএইচ/জেআইএম