Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

গাইবান্ধায়‎ বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যু ‎‎

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ‎বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ‎ নিহতরা-...
Homeসুপারিশপ্রাপ্ত ১৪৩৮৪ শিক্ষকের ভাগ্য ঝুলছে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে

সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪৩৮৪ শিক্ষকের ভাগ্য ঝুলছে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগদানের অপেক্ষায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দ্রুততম সময়ে আবেদন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তাদের তড়িঘড়ি নিয়োগ সুপারিশ করা নিয়ে রয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ফলে সুপারিশের চার মাস পার হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে পারেননি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর এ নিয়ে নানান সময়ে নানান বক্তব্য দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন। পরে তাদের কিছু শর্তসাপেক্ষে যোগদান করানো হবে বলে জানান মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

ঘোষণা অনুযায়ী- সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সামনে চারটি শর্ত রেখেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেগুলো হলো- পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) ভেরিফিকেশন, ভিন্ন মডেলে দুই মাসের পিটিআই প্রশিক্ষণ ও চাকরির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

সম্প্রতি এনএসআইয়ের মাধ্যমে ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার সরকার। তিনি বলেন, ‘এনএসআইয়ের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে গত মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন
প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান আটকা, অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা
লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের
যোগদানের আগে ফের পরীক্ষায় বসতে হবে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলছেন, পিটিআই প্রশিক্ষণ ও চাকরির অন্যান্য শর্ত পূরণে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা মূলত ব্যক্তি ও পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাই করে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বাদ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে শত্রুতা করে অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে হয়রানির শঙ্কাও জানিয়েছেন তারা।

নওগাঁর একজন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা স্থানীয় বাজারে এসে নাকি আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছেন। তারা কী কী বলেছেন, সেটা আমি জানিও না। স্থানীয়দের অনেকের সঙ্গে আমাদের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত ঝামেলা রয়েছে। তারা এক বড় ভাইয়ের বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছেন। আমার চাকরির ক্ষেত্রেও যে বাগড়া দেবে না, সেই নিশ্চয়তা কোথায়?’

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা মোসাদ্দেক বিল্লাহ। তিনি সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। মোসাদ্দেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের যাচাই ছিল না। অথচ এবার সেটা করে আমাদের ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কারণে-অকারণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রার্থীদের ডেকে নানান ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তারা এ সুযোগে অনৈতিক সুবিধাও আদায় করার চেষ্টা করছেন।’

তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরে পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক দফা পুলিশ ও এক দফায় এনএসআই ভেরিফিকেশন হয়েছে। পুনরায় এনএসআই ভেরিফিকেশনের নির্দেশনা দিয়েছেন মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। ঠিক কী কারণে আবারও ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে, তা আমরাও জানি না।’

আরও পড়ুন
প্রাথমিকে ১৪৩৮৪ শিক্ষকের যোগদানে শর্ত কী, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ
প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বে না: শিক্ষামন্ত্রী

পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সেটা যাচাইয়ের একটি ব্যাপার থাকতে পারে। দ্বিতীয় ব্যাপারটা হলো- বর্তমান বিরোধীদলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও একচেটিয়া সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন গুঞ্জন রয়েছে। বিষয়গুলো হয়তো পুনরায় যাচাই করার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়।’

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদান করানো হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তবে মন্ত্রীর সেই ঘোষণার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদানপ্রক্রিয়া ঝুলে আছে। এরমধ্যেই পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ঘিরে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের।

এএএইচ/বিএ