Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeঅতিরিক্ত ঘুমে কমতে পারে আয়ু

অতিরিক্ত ঘুমে কমতে পারে আয়ু

পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ থাকার জন্য জরুরি। তবে শুধু কম ঘুম নয়, অতিরিক্ত ঘুমও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেকেই মনে করেন বেশি ঘুম মানেই বেশি বিশ্রাম, কিন্তু চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমানো এবং অলস জীবনযাপন শরীরে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত ঘুম কেন বিপজ্জনক?

গবেষকদের মতে, যারা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমান এবং শারীরিকভাবে খুব কম সক্রিয় থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে শরীরচর্চার অভাব যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়ছে, আর জীবনযাপনের এই অনিয়ম তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে

২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমানো মানুষের মধ্যে হতাশা ও মানসিক অবসাদের লক্ষণ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কর্মস্পৃহা কমে যায় এবং তারা ধীরে ধীরে সামাজিক ও মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।

মানসিক বিকাশ ও কাজের গতিতে প্রভাব পড়ে

অতিরিক্ত ঘুম মানুষকে অলস ও অনুৎসাহী করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটানোর ফলে মনোযোগ কমে যায় এবং কাজের প্রতি আগ্রহও হ্রাস পায়। এতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুমের কারণে অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি

বেশি ঘুমের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধিরও সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ফলে শরীরের ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং শারীরিক নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত ঘুমান, তাদের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে স্থূলতা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়।

হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর অভ্যাস হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় তিন হাজার মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের করোনারি আর্টারি রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। দীর্ঘ সময় ঘুমের ফলে শরীরে রক্তসঞ্চালন ও বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আয়ু কমার আশঙ্কা

বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুমান, তাদের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো এবং সক্রিয় জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হিন্দুস্তান টাইমস, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন

এসএকেওয়াই