তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও এনামুল হক বিজয়-আফিফ হোসেন বিজয়ের জোড়া ফিফটিতে আগে ব্যাটিং করে প্রায় সাড়ে ৩০০ রানের পুঁজি গড়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। রেকর্ড ফিফটিতে সেই রান তাড়ায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ঝড়ো শুরু এনে দেন হাবিবুর রহমান সোহান। তবে এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দলটির ব্যাটিং লাইন আপ। এতে করে একেপেশে ম্যাচে সহজ জয় পায় মোহামেডান।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম রাউন্ডে রূপগঞ্জকে ১০৭ রানে হারিয়েছে মোহামেডান।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৩৯ রান তোলে মোহামেডান। ১০১ রান করেন হৃদয়। এছাড়া বিজয় ৭১ আর আফিফ করেন ৭০ রান। জবাবে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন সোহান।
এই জয়ে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখলো মোহামেডান। লিগে বাকিই আরও ৩ ম্যাচ, সবকটি জিতলে ১৬ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে মোহামেডান। আর পরের দুই ম্যাচ জিতলেও আবাহনীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ হবে সাদাকালোদের জন্য।
রান তাড়ায় শুরুতেই আশিকুর রহমান শিবলীকে হারায় রূপগঞ্জ। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় বইয়ে দেন হাবিবুর রহমান সোহান। পঞ্চম ওভারে নাহিদ রানাকে হাঁকান ৩ ছক্কা ও ২ চার। ১৫ বলে যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটি করা সোহান ফেরেন ২৭ বলে ৫৯ রান করে। এরপর আচমকাই ভেঙে পড়ে রূপগঞ্জের ব্যাটিং লাইনআপ।
৬৮ রানে ১ উইকেট থেকে ১২০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায় তারা। এরপর নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী লড়াই করলেও সেটা শুধু ব্যবধান কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ। মেহেদী ৩৭ আর নাসুম করেম ৪৫ রান। মোহামেডানের হয়ে নাহিদ রানা ৪টি আর তাঈবুর রহমান পারভেজ নেন ৩ উইকেট।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৭৬ রানের ওপেনিং জুটি পায় মোহামেডান। ৩৪ রান করে নাঈম শেখ বিদায় নিলে ভাঙে জুটি। এরপর অধিনায়ক হৃদয়কে নিয়ে এগোতে থাকেন এনামুল হক বিজয়। ৭১ রান করে বিদায় নেন তিনি।
শুরুতে বেশ কিছুটা সময় নেন হৃদয়। ফিফটি করতে বল লাগে ৭৫টি। পরে অবশ্য শেষের দাবি মিটিয়ে ঝড় তুলে শতরানে পৌঁছে যান তিনি ১০৫ বলেই। এর মধ্যে আফিফ হোসেনের সঙ্গে ১৪০ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। আফিফ খেলেন ৭০ রানের ইনিংস। আর ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১০৬ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ১০১ রান করেন হৃদয়। শেষদিকে ১৯ বলে ৩৩ রানের ক্যামিওতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন হাসান মাহমুদ।
এসকেডি/এমএমআর

