Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeদীপেন দেওয়ানকে স্বপদে ফেরত চান বিএনপি নেতাকর্মীরা

দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে ফেরত চান বিএনপি নেতাকর্মীরা

চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রাঙ্গামাটি আসনে প্রথম পূর্ণমন্ত্রী হয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান এমপি। কিন্তু মাত্র শপথের সাড়ে তিনমাসেই পদত্যাগ করেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতা দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অথচ ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, তার শারীরিক অবস্থা এতটা খারাপ নয় যে, পদত্যাগ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠন নিয়ে বিরোধ সবমিলে অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, ‘এর বাইরেও মন্ত্রনালয়ের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আমরা খবরটি শোনার পর অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু সম্ভব হয়নি।’

জেলা বিএনপির আরেক সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ‘বিএনপি ৩১ দফা ও শহীদ জিয়ার ১৯ দফা নিয়ে পথে প্রান্তরে ছুটেছেন তিনি। ওনার মত ব্যক্তি শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন এটা মানতে পারি না। অন্য কারণ আছে বলে মনে করি। ওনার পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মমতাজ মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত ওনার সঙ্গে রাজনীতি করে আসছি। উনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। এখানে পাহাড়ি বাঙালি মিলেমিশে থাকুক এটা কেউ কেউ চায় না। একজন ভালো মানুষকে জোর করে চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। আমরা চাই ওনার পদত্যাগ গ্রহণ না করে পার্বত্যবাসীর সেবা করার সুযোগ দেওয়া হোক।’

বিএনপি নেতা মানস মুকুর চাকমা বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা। যিনি ইতিমধ্যে পার্বত্যবাসীর মন জয় করে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। আমরা ফেসবুকে দেখেছি একজন প্রতিমন্ত্রীর প্ররোচনায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। জানি না এটা কতটুকু সত্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ দীপেন দেওয়ানকে সমর্যাদায় আমাদের কাছে ফেরত দিন।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বেলাল হোসেন সাকু বলেন, দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন এটা নিয়ে শুধু আমি না ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যথিত। আমরা চাই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে পুনরায় বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

বিএনপির কাউখালী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি সাজাইমং মারমা বলেন, ‘যারা দীর্ঘদিন যাবত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে লালন-পালন করে আসছে তাদের ষড়যন্ত্রে আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সম্প্রীতির স্তম্ভ দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত রেইনবো নেশন বাস্তবায়ন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপিকে শক্তিশালী এবং সমতলের মতো পাহাড়েও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রীর পদ ফিরিয়ে দিতে।

দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ছিলেন দীপেন দেওয়ান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপির সরকারের সময় রাঙ্গামাটি থেকে প্রথম উপমন্ত্রী করা হয় মনি স্বপন দেওয়ানকে। তিনিও ২০০৬ সালে পদত্যাগ করেন। বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে বিএনপির দুই শাসনামলের দুই মন্ত্রী-উপমন্ত্রী পদত্যাগ করে আলোচনার ঝড় তুললেন।

আবু দারদা খান আরমান/এএইচ/জেআইএম